জুন ২৭, ২০২৬, ১২:৩০ পিএম
দীর্ঘ দুই বছর বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আবারও খুলতে যাচ্ছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে বিনা খরচে কর্মী পাঠানো শুরু হবে বলে আশা করছে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরেও দেশটির শ্রমবাজারে বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের বিষয়টি দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়।
এবার মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ নয়, বরং বাংলাদেশ সরকার নিজেই রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচন করবে।মধ্যপ্রাচ্যের পর বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এই বৈদেশিক শ্রমবাজারে বরাবরই অনয়ম ও সিন্ডিকেটের নানা অভিযোগ ছিল।এর আগে দুর্নীতির কারণে দুই দফা বন্ধ হওয়ার পর ২০২২ সালে আবার কর্মী যাওয়া শুরু হলেও ২০২৪ সালের ১ জুন থেকে শ্রমবাজারটি আবারও সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
নতুন নিয়মে কর্মীরা যেন কোনো খরচ ছাড়াই সেখানে যেতে পারেন, সে লক্ষ্যে দুই দেশের যৌথ ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে ইতিবাচক আলোচনা চলছে। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজ বা বায়রা আশা করছে, আইনি জটিলতা দ্রুত কাটিয়ে বাজারটি উন্মুক্ত হবে।
সিন্ডিকেট ও দুর্নীতির মতো বিতর্ক এড়াতে সরকার ও রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন জনশক্তি রপ্তানিকারকরা। বায়রার সাবেক নেতৃবৃন্দ জানান, প্রশাসন যদি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর প্রতি ইতিবাচক ভূমিকা নেয়, তবে সরকারি কর্মসংস্থান পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা অনেক সহজ হবে। তবে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, কর্মী পাঠানোর প্রতিটি ধাপে পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না গেলে বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা বড় ধাক্কা খেতে পারে।
এদিকে ২০২৪ সালে মালয়েশিয়ায় যেতে না পারা ৭ হাজার ৮৭৩ জন কর্মীর মধ্যে বোয়েসেলের মাধ্যমে ইতিমধ্যে প্রায় ৩ হাজার কর্মী সেখানে যেতে পেরেছেন। বাকি থাকা কর্মীদের বিষয়েও দ্রুত পৃথক সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এই খাতের সংশ্লিষ্টরা। যৌথ ওয়ার্কিং কমিটির আগামী বৈঠকে ইতিবাচক সমাধান এলে দীর্ঘদিনের এই শ্রমবাজারের সংকট অনেকটাই কেটে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন