জুন ২৭, ২০২৬, ০৪:৫৯ পিএম
বাংলাদেশে মৃতদেহ থেকে অঙ্গদান ও কিডনি প্রতিস্থাপন কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত ও সম্প্রসারিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শনিবার ঢাকার মিরপুরে কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশন সম্মেলনে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডাক্তার এজেডএম জাহিদ হোসেন এই তথ্য জানান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, সরকার, চিকিৎসা সমাজ, গণমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগেই একটি টেকসই অঙ্গদান ও কিডনি প্রতিস্থাপন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। অঙ্গদানকে মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে তিনি দেশজুড়ে এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ দেন।
দক্ষ কো-অর্ডিনেটর তৈরি এখন সময়ের দাবি।
মৃত রোগীর কিডনি ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত তাজা থাকে এবং তা প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে আক্রান্ত ব্যক্তির জীবন রক্ষা করা সম্ভব বলে সম্মেলনে জানানো হয়। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, সরকারি সহায়তা সম্প্রসারণ এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে হাজার হাজার রোগীর জীবন বাঁচানো সম্ভব। অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নেফ্রোলজিস্ট এবং সার্জনরা অংশ নেন। কিডনি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক রুহুল আমিন রুবেল অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এবং সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক হারুন-উর-রশিদ।
সম্মেলনে বিশেষজ্ঞরা জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় ২ কোটি মানুষ কোনো না কোনো কিডনি রোগে আক্রান্ত। প্রতি বছর প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার রোগী চূড়ান্ত পর্যায়ের কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে ডায়ালাইসিসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। আর্থিক সংকটের কারণে দেশের ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ রোগী প্রয়োজনীয় প্রতিস্থাপন সেবা থেকে বঞ্চিত থাকেন। বছরে মাত্র কয়েকশত কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হলেও মৃত ডোনার থেকে অঙ্গদানের সংখ্যা এখনো অত্যন্ত নগণ্য। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে কিডনি চিকিৎসা সেবাকে আরও সুলভ ও সহজলভ্য করার আহ্বান জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন