জুন ২৯, ২০২৬, ০৮:০১ পিএম
পরিবেশ রক্ষা এবং দেশকে পুরোপুরি পরিচ্ছন্ন রাখতে দেশের প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে প্রতি বছর অন্তত একটি করে চারাগাছ রোপণের উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় এবং চারপাশের পরিবেশ সুরক্ষায় আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানান তিনি। সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অভিন্থির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।
দেশব্যাপী মাধ্যমিক স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ঐতিহাসিক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং জাতীয় স্টার্টআপ ও বিজ্ঞান প্রদর্শনীর শুভ উদ্বোধন উপলক্ষে এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে অনুষ্ঠানস্থলে আসার আগে তিনি স্বহস্তে একটি চারা রোপণ করেছেন। সেই মুহূর্তে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে সারা বাংলাদেশের ২৯ হাজার৬০০টি বিভিন্ন স্থান অনলাইনের মাধ্যমে এই কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সাথে সরাসরি সংযুক্ত ছিল।
প্রতিটি সংযুক্ত স্থানে তিনটি করে চারা রোপণের মাধ্যমে দেশজুড়ে এক দিনে প্রায় ৯০ হাজার গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান। তরুণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশের নতুন প্রজন্মের জন্য এমন সব যুগোপযোগী সুযোগ-সুবিধা তৈরি করবে যাতে তারা পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী হয়ে গড়ে উঠতে পারে।আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজের ঘর পরিচ্ছন্ন রাখার মতোই পুরো দেশকে সুন্দর রাখার দায়িত্ব তরুণদের ভাগ করে নিতে হবে।
কেবল সিটি করপোরেশন বা পৌরসভার ওপর এককভাবে নির্ভর না করে জনসমাগমস্থলে ময়লা ফেলার মানসিকতা বর্জন করতে হবে এবং অন্য কেউ ময়লা ফেললে তাকে সচেতন করতে হবে। জনসংখ্যা ও যানবাহন বৃদ্ধির কারণে বনায়ন সংকুচিত হওয়া এবং বায়ু দূষণ বেড়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি সবাইকে নিজের জন্য হলেও একটি করে গাছ লাগানোর পরামর্শ দেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অনন্য ও উদ্ভাবনী প্রকল্পের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘উদ্ভাবনী মেধাবী পুরস্কার’ প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।
জাতীয় পর্যায়ের এই প্রতিযোগিতায় চমৎকার পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে দেশসেরা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে ঢাকার সেন্ট জোসেফ উচ্চ বিদ্যালয়। এছাড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত অন্য বিশিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে মেহেরপুরের সন্ধানী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, দিনাজপুর সরকারি কলেজ, দিনাজপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকার আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, নীলফামারীর শরীফাবাদ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, চট্টগ্রামের ফুলকি সহজপাঠ বিদ্যালয়, কুষ্টিয়া জেলা স্কুল, নড়াইল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং পটুয়াখালীর গলাচিপা আলিম মাদ্রাসা। অনুষ্ঠান মঞ্চে প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী এবং বিশেষ অতিথি ডা. জুবাইদা রহমানকে আয়োজকদের পক্ষ থেকে সম্মাননাসূচক স্মারক ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল। এর আগে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর বা বিএনসিসির একটি চৌকস দল তাঁকে চমৎকার গার্ড অব অনার প্রদান করে। ৬০ বছর বয়সী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের ভবিষ্যৎ তরুণদের হাতে সঁপে দিয়ে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও গবেষণার মাধ্যমে একটি টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে নিজের বক্তব্য শেষ করেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন