বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬,

তরুণ উদ্যোক্তা তৈরিতে ২০ লাখ টাকা অর্থায়ন কর্মসূচি

জাতীয় ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬, ১০:১০ পিএম

তরুণ উদ্যোক্তা তৈরিতে ২০ লাখ টাকা অর্থায়ন কর্মসূচি

ছবি: সংগৃহীত

তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে উপজেলা পর্যায়ে সমন্বিত অর্থায়ন কর্মসূচি চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‍‍`উদ্যোগ‍‍` নামের এই বিশেষ কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত তরুণরা নিজেদের ব্যবসায়িক প্রকল্প বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহযোগিতা পাবেন। আজ রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস্ ডিপার্টমেন্ট এ সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কাছে পাঠিয়েছে।

দেশের প্রতিটি উপজেলায় সম্ভাবনাময় তরুণদের ব্যবসায় যুক্ত করাই এর লক্ষ্য। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, এই কর্মসূচিতে অর্থায়ন করা হবে মূলত ঋণ ও অনুদানের যৌথ সমন্বয়ে। এতে ঋণ ও অনুদানের অনুপাত নির্ধারণ করা হয়েছে সমান হারে, অর্থাৎ পঞ্চাশ অনুপাত পঞ্চাশ। ফলে একজন উদ্যোক্তা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ এবং সমপরিমাণ সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত এককালীন সরকারি অনুদান পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে সবাই সর্বোচ্চ সীমার অর্থ পাবেন না; প্রকল্পের প্রকৃত চাহিদা মূল্যায়ন করে অর্থায়নের আকার নির্ধারিত হবে। যেমন কোনো ব্যবসায় ১২ লাখ টাকার অনুমোদিত বাজেট থাকলে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা ছয় লাখ টাকা ঋণ এবং ছয় লাখ টাকা অনুদান হিসেবে পাবেন।

সম্পূর্ণ অর্থ উদ্যোক্তার নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাবে এককালীন বিতরণ করা হবে এবং কোনো নগদ অর্থ লেনদেন করা যাবে না। ঋণের অর্থ পরিশোধে অনিয়ম করলে বা অনুদানের টাকার অপব্যবহার প্রমাণিত হলে প্রদত্ত অনুদানটি সরাসরি ব্যাংক ঋণে রূপান্তরিত হবে এবং তা সরকারি পাওনা হিসেবে আদায়যোগ্য হবে। প্রান্তিক তরুণদের সুযোগ দিতে এই ঋণের বিপরীতে অতিরিক্ত কোনো সহায়ক জামানত না রাখার বিধান রাখা হয়েছে। কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হস্তশিল্প, মৎস্য, পশুপালন, পর্যটন, হালকা প্রকৌশল, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং প্রযুক্তিভিত্তিক নতুন উদ্যোগসহ বৈধ যেকোনো উৎপাদন ও সেবামূলক কাজ এই অর্থায়নের আওতাভুক্ত হবে।

কর্মসূচিতে আবেদনের ক্ষেত্রে প্রার্থীর বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ ২৮ বছর। আবেদনকারীকে আবশ্যিকভাবে সংশ্লিষ্ট উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে, যার প্রমাণ হিসেবে স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর বা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের নাগরিক প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে হবে। তবে অতীতে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যবসায়িক ঋণ গ্রহণকারী, সিআইবি প্রতিবেদনে ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তি এবং সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরতরা এতে আবেদন করতে পারবেন না। অন্যের পরিকল্পনা নিজের নামে জমা দেওয়া বা মিথ্যা তথ্য প্রদানের প্রমাণ মিললে আবেদন বাতিলসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে।

বাছাই প্রক্রিয়ায় যেকোনো ধরনের ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক তদবির নিষিদ্ধ। আগ্রহী উদ্যোক্তারা নিজ উপজেলায় অবস্থিত যেকোনো বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখায় আবেদন জমা দিতে পারবেন এবং ওই নির্দিষ্ট ব্যাংকে আগে থেকে অ্যাকাউন্ট থাকা বাধ্যতামূলক নয়। জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট সাইজের ছবি, সর্বশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ এবং পূরণ করা আবেদনপত্রের সাথে বাস্তবসম্মত ব্যবসায়িক পরিকল্পনা জমা দিতে হবে। প্রতিটি উপজেলায় সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত একটি লিড ব্যাংক।

উদ্যোক্তা নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বাণিজ্যিক ব্যাংক, প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ ও খাতভিত্তিক বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি নিরপেক্ষ মূল্যায়ন কমিটি গঠন করা হবে। ব্যবসায়িক ধারণার কার্যকারিতা, কর্মসংস্থান তৈরির সম্ভাবনা ও বাজার যাচাই শেষে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হবে। তবে মনোনয়ন পেলেই অর্থ প্রাপ্তি নিশ্চিত নয়; সংশ্লিষ্ট ব্যাংক নিজস্ব ঋণবিধি মেনে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রস্তাব নিষ্পত্তি করবে এবং কোনো আবেদন নাকচ করলে তার লিখিত কারণ বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করতে হবে।

অর্থ বরাদ্দের পর উদ্যোক্তার উৎপাদন, বিপণন ও ক্যাশ ফ্লো ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নিয়মিতভাবে তদারকি করবে। পাশাপাশি তরুণদের আর্থিক সাক্ষরতা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, মেন্টরিং, ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তি এবং কর শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএন সংগ্রহে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে জারি করা এই সমন্বিত নির্দেশনা অবিলম্বে সারা দেশে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।