সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ডিএসসিসিতে এডিস লার্ভা জরিপ শুরু

জাতীয় ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬, ০৭:২০ পিএম

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ডিএসসিসিতে এডিস লার্ভা জরিপ শুরু

ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিতকরণ এবং তথ্যনির্ভর মশক নিধন কার্যক্রমের লক্ষ্যে ১২ দিনব্যাপী বিশেষ বর্ষাকালীন লার্ভা জরিপ শুরু করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। সোমবার নগর ভবনে এই বৈজ্ঞানিক জরিপ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সংস্থার প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। চলমান এই মাঠপর্যায়ের জরিপ গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে এবং আগামী ৮ অক্টোবর পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। কর্মসূচির আওতায় করপোরেশনের আওতাধীন ৭৫টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে দৈবচয়ন ভিত্তিতে ৩০টি করে মোট ২ হাজার ২৫০টি বসতবাড়ি থেকে বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এই বিস্তৃত অনুসন্ধান কার্যক্রমের মাধ্যমে দক্ষিণ সিটির ১০টি অঞ্চলের মশার সামগ্রিক প্রাদুর্ভাব এবং লার্ভার মূল উৎসগুলো স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটির মোট ৭২ জন প্রশিক্ষিত মাঠকর্মী সরাসরি এই জরিপ কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন। তথ্যের স্বচ্ছতা, তাৎক্ষণিকতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে আধুনিক কোবো টুলবক্স অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করা হচ্ছে। সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে ব্রেটু ইনডেক্স, হাউস ইনডেক্স, কনটেইনার ইনডেক্স এবং পিউপা ইনডেক্স নির্ধারণ করা হবে। জরিপ থেকে প্রাপ্ত সূচকের পরিমাপ অনুযায়ী পুরো এলাকাকে তিনটি সুস্পষ্ট ঝুঁকিমাত্রায় ভাগ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। 

যেসব এলাকায় ব্রেটু ইনডেক্সের মান ২০ বা তার বেশি পাওয়া যাবে সেগুলোকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। সূচকের মান ১০ থেকে ১৯ হলে সেগুলোকে মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ এবং মান ১০-এর নিচে থাকলে সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। এই বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে চিহ্নিত নির্দিষ্ট হটস্পটগুলোতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, লার্ভিসাইড প্রয়োগ এবং বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রামসহ নিধন তৎপরতা জোরদার করা হবে।

উদ্বোধনী বক্তব্যে ডিএসসিসির প্রশাসক জানান, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রজননস্থল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, চলমান জরিপ কার্যক্রম নগরীর বর্তমান মশক পরিস্থিতির একটি নির্ভুল চিত্র তুলে ধরবে, যার ওপর ভিত্তি করে প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

নাগরিকদের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, আগের জরিপে দেখা গেছে বাসাবাড়ি ও ব্যক্তিগত আঙিনায় জমে থাকা স্বচ্ছ পানিই এডিসের প্রধান প্রজননক্ষেত্র হিসেবে কাজ করে। তাই ছাদ, বারান্দা, নির্মাণাধীন ভবন ও সংলগ্ন উন্মুক্ত স্থান নিয়মিত পানিমুক্ত রাখতে নগরবাসীকে সক্রিয়ভাবে সচেতন হতে হবে। সিটি করপোরেশনের উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকেরা সচেতন হয়ে এগিয়ে এলেই কেবল এডিস মশার বংশবৃদ্ধি কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

এর আগে পরিচালিত বর্ষাপূর্ববর্তী জরিপে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৬৩টি ওয়ার্ডে লার্ভার ঘনত্ব নির্ধারিত সূচকের চেয়ে বেশি শনাক্ত হয় এবং তখন ২৭টি ওয়ার্ডকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। ওই জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতেই ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলোতে সমন্বিত ক্র্যাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করেছিল নগর কর্তৃপক্ষ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, সচিব মো. মশিউর রহমান খান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার এবং প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমানসহ সংস্থার বিভিন্ন স্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।