বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর, ২০২৬,
ফ্যামিলি কার্ডে সতর্কতা

ফ্যামিলি কার্ডে টাকা নিলে মামলা করব: ডেপুটি স্পিকার

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ১, ২০২৬, ১০:০৫ পিএম

ফ্যামিলি কার্ডে টাকা নিলে মামলা করব: ডেপুটি স্পিকার

ফ্যামিলি কার্ডে নাম অন্তর্ভুক্ত করা কিংবা কার্ড পাইয়ে দেওয়ার নামে কোনো ধরনের অর্থ আদায় করা হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নিজে বাদী হয়ে নিয়মিত ফৌজদারি মামলা দায়ের করার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। বৃহস্পতিবার দুপুরে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলা পরিষদের সোমেশ্বরী হলরুমে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই বার্তা দেন। দরিদ্র মানুষের সামাজিক সুরক্ষা ভাতার কার্যক্রমে অনিয়ম রোধে এই কঠোর অবস্থান।

ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল পরিষ্কার ভাষায় জানান, তিনি যদি সরেজমিনে গ্রামে গিয়ে শোনেন যে কার্ডের জন্য পাঁচশ টাকা বা নাম তোলার জন্য দুইশ টাকা নেওয়া হয়েছে, তবে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে খুঁজে বের করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পেশায় একজন আইনজীবী হিসেবে তিনি নিজে আদালতে গিয়ে বাদী হয়ে মামলা পরিচালনা করবেন এবং প্রদত্ত অঙ্গীকার রক্ষা করবেন। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চার কোটির বেশি পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে হেলথ কার্ডও চালু করা হবে। তাই এই কল্যাণমূলক কার্যক্রমে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা অর্থ লেনদেন বিন্দুমাত্র সহ্য করা হবে না।

বিগত দেড় দশকের রাজনৈতিক ও সামাজিক অবক্ষয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি অতীত অনিয়মের দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন। তিনি জানান, অতীতে কলমাকান্দার লেংগুরা এলাকায় বহুতল ভবনের মালিককেও ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে এবং ঈশ্বরগঞ্জে বিয়ে হয়ে যাওয়া মেয়ের নামেও কার্ড বরাদ্দের ঘটনা ঘটেছে। সেই বিশৃঙ্খলা থেকে বেরিয়ে এসে প্রকৃত দারিদ্র্য দূরীকরণে এখন প্রশাসনকে নতুন নিয়মের মধ্যে আনা হচ্ছে।

দুর্গাপুর উপজেলায় তালিকা প্রণয়নের দায়িত্বে মোট ১০৭ জন মাঠকর্মী নিযুক্ত রয়েছেন। এর মধ্যে ১০ জন সুপারভাইজার এবং ৯৭ জন সরাসরি তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে কাজ করছেন। তাদের সততা ও দল-মতের ঊর্ধ্বে থাকার ওপরই প্রকল্পের মূল সাফল্য নির্ভর করছে বলে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। তথ্য সংগ্রহকারীদের উদ্দেশে তিনি নির্দেশ দেন যেন সমাজের সবচেয়ে প্রান্তিক স্তর, বিশেষ করে জরাজীর্ণ কুঁড়েঘর বা গৃহহীনদের ছাপড়া ঘর থেকে তথ্য সংগ্রহ শুরু করা হয়। কারো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা বা ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে নয়, বরং স্রষ্টাকে স্মরণ করে কেবল প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় পরিবারের নাম নথিবদ্ধ করতে হবে।

সুপারভাইজারদের উদ্দেশ্যে ডেপুটি স্পিকার বলেন, মাঠকর্মীদের তালিকার প্রতিটি নাম দ্বিতীয়বার যাচাই ও পরীক্ষা করতে হবে। নির্বাচনে কে কাকে ভোট দিয়েছেন সেই বিবেচনায় কোনো নাগরিককে বাদ দেওয়া যাবে না, কারণ রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের নাগরিক অধিকার আদায়ে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ সাদাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তারেক হোসাইন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জহিরুল আলম ভূইয়াসহ মাঠপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।