রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬,

ওয়াশিংটন অ্যাকর্ড স্বীকৃতিতে প্রকৌশল শিক্ষায় জোর দেওয়ার বার্তা

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ১১, ২০২৬, ০৮:১০ পিএম

ওয়াশিংটন অ্যাকর্ড স্বীকৃতিতে প্রকৌশল শিক্ষায় জোর দেওয়ার বার্তা

আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে স্বীকৃত ওয়াশিংটন অ্যাকর্ডের স্বীকৃতি দেশের প্রকৌশল শিক্ষার অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং এ রূপরেখা বাস্তবায়নে সরকার প্রয়োজনীয় সব নীতিগত সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‍‍`বিএইটিই জাতীয় সিম্পোজিয়াম ২০২৬‍‍`-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন এ কথা জানান। দ্য ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি)-এর বোর্ড অব অ্যাক্রেডিটেশন ফর ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন (বায়েট) এই সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করে।

তিনি উল্লেখ করেন, আধুনিক প্রশিক্ষণ, বৈশ্বিক সংযোগ এবং শিল্পের সাথে নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশের তরুণ প্রকৌশলীরা আন্তর্জাতিক মানে দক্ষ হয়ে উঠবেন। বিপুল জনসমর্থন নিয়ে গঠিত বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে তরুণ প্রকৌশলীদের যথাযথ ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা। দেশের আরও বেশি প্রকৌশল প্রোগ্রামকে এই আন্তর্জাতিক কাঠামোর অধীনে আনার ক্ষেত্রে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা দেবে।

বাংলাদেশি তরুণদের মেধার কোনো ঘাটতি নেই উল্লেখ করে মাহ্‌দী আমিন বলেন, বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ও উচ্চশিক্ষা সংস্থাগুলোতে এ দেশের প্রকৌশলীরা নিজেদের উৎকর্ষের প্রমাণ দিচ্ছেন। তরুণদের মেধার অভাব নেই, মূল বিষয় হলো রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের জন্য সঠিক সুযোগ, আধুনিক উপকরণ ও অবকাঠামোগত ভিত্তি গড়ে তোলা হচ্ছে কি না।

বিশ্বমানের প্রকৌশল শিক্ষা নিশ্চিতকরণে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, আন্তঃসীমান্ত শিক্ষার প্রসারে আন্তর্জাতিক অ্যাক্রেডিটেশন অপরিহার্য, যার কার্যকর দৃষ্টান্ত ওয়াশিংটন অ্যাকর্ড ও ডাবলিন অ্যাকর্ড। দেশীয় প্রকৌশল শিক্ষাকে বৈশ্বিক মানে উন্নীত করতে একটি সমন্বিত প্রমিত মানদণ্ড গঠনের আহ্বান জানান তিনি।

শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে সঠিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত বজায় রাখা, আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকমণ্ডলী নিশ্চিত করা, গবেষণার প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা এবং আধুনিক পাঠ্যক্রম প্রণয়নের তাগিদ দেন মাহ্‌দী আমিন। উন্নত ল্যাবরেটরি, সমৃদ্ধ লাইব্রেরি ও আন্তর্জাতিক গবেষণা জার্নাল ব্যবহারের সুযোগ অবারিত করার কথাও তিনি বলেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির বিকাশ নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবোটিক্স প্রকৌশল শিক্ষার ধরন আমূল বদলে দিচ্ছে। প্রযুক্তি হয়তো নিজে কোড লিখতে পারে কিংবা জটিল সমস্যার সমাধান করতে পারে, কিন্তু প্রযুক্তির পেছনে মানবিক নৈতিকতা ও সুবুদ্ধি নিশ্চিত করতে মানুষের দায়বদ্ধতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। প্রকৌশলীদের এমন নৈতিক মানদণ্ডে গড়ে তুলতে হবে যাতে তারা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে সফল হতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, উচ্চশিক্ষা এখন ভৌগোলিক সীমানায় আবদ্ধ নেই। তরুণরা দেশীয় প্রতিষ্ঠান থেকে স্নাতক ডিগ্রি নিয়েই বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করবে, শীর্ষ সংস্থায় নেতৃত্ব দেবে এবং শিক্ষকতা করবে। আধুনিক পাঠ্যক্রম ও শিল্প-একাডেমিয়া সমন্বয় তাদের সেই সক্ষমতা দেবে।

উপদেষ্টা জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের মানুষকে সব নীতি প্রণয়নের কেন্দ্রে রেখেছেন এবং তরুণ প্রজন্মের ক্ষমতায়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। সরকারের আট মাসের কার্যক্রমে শিক্ষা ও প্রযুক্তির মানোন্নয়নে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ শুরু হয়েছে।

দেশে প্রতি বছর ১০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষায় প্রবেশ করে এবং প্রায় ২০ হাজার তরুণ প্রকৌশল বিদ্যার নানা শাখায় ভর্তি হয়। তবে সব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাদানে সমতা না থাকায় গুণগত মানে ব্যবধান রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ডিগ্রি প্রদান ও পাঠদানের একটি সুনির্দিষ্ট ভারসাম্যপূর্ণ মানদণ্ড থাকলে গ্র্যাজুয়েটরা কর্মক্ষেত্রে ও উচ্চশিক্ষায় নিজেদের দক্ষতার পূর্ণ বিকাশ ঘটাতে পারবে।

এ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের পাশাপাশি বায়েটের যৌথ ভূমিকার কথা তুলে ধরা হয়। বায়েট বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোগ্রামের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পথ সুগম করবে, যা পরবর্তীতে জাতীয় কাউন্সিলের অনুমোদনকে সংহত করবে। বায়েট ইতোমধ্যেই ওয়াশিংটন অ্যাকর্ডের পূর্ণ সদস্যপদ অর্জন করায় এ কার্যক্রম সারা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

বিএইটিই চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. তানভীর মনজুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ডাবলিন অ্যাকর্ডের চেয়ার অধ্যাপক ই. ড. মেগাত জোহারি মেগাত মোর্দ নূর, ওয়াশিংটন অ্যাকর্ডের চেয়ার অধ্যাপক ড. কাই স্যাং লক, বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন খান, আইইবির সভাপতি প্রকৌশলী মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম, সাবেক সংসদ সদস্য প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি প্রকৌশলী খালেদ হোসেন মাহবুব উপস্থিত ছিলেন।