সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬,

ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু লক্ষ্য চার কোটি পরিবার

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ১২, ২০২৬, ০৮:৫৩ পিএম

ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু লক্ষ্য চার কোটি পরিবার

সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে দেশব্যাপী পরিবারের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে ফ্যামিলি কার্ডের দেশব্যাপী তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত বৈজ্ঞানিক যাচাইয়ে সুবিধাভোগী নির্বাচন করা হবে।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সাড়ে তিন কোটি থেকে চার কোটি পরিবারের আর্থসামাজিক তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের পর এর মধ্য থেকে প্রায় এক কোটি ৬০ লাখ থেকে দুই কোটি ১০ লাখ পরিবার এই কার্ডের আওতায় সরকারি সুবিধা পাওয়ার যোগ্য বিবেচিত হতে পারে বলে সরকার ধারণা করছে।

আগামী চার বছরের মধ্যে যোগ্য সব পরিবারের কাছে পর্যায়ক্রমে এই সেবা পৌঁছে দেওয়া হবে।

হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে চিহ্নিত করা হবে। মন্ত্রী স্পষ্ট করেন, এ ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক কিংবা ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হবে না। কেবল পারিবারিক ও অর্থনৈতিক যোগ্যতার ভিত্তিতেই কার্ড বরাদ্দ করা হবে।

সুবিধাভোগী নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে প্রক্সি মিন্স টেস্ট বা পিএমটি নামের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। এই পদ্ধতিতে পরিবারের প্রকৃত আর্থসামাজিক অবস্থা সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রেডিং করা হবে। ফলে তথ্য সংগ্রহ ও তালিকা প্রণয়নে মানুষের তৈরি ভুলভ্রান্তি থাকবে না।

দেশব্যাপী বৃহৎ এই কার্যক্রম শুরুর আগে পরীক্ষামূলক পাইলটিং সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রাথমিক যাচাইয়ে তথ্য সংগ্রহ ও বাছাই প্রক্রিয়ায় ভুলের হার কোনোভাবেই দুই থেকে তিন শতাংশের বেশি পাওয়া যায়নি। চিহ্নিত সেই সামান্য ত্রুটিগুলোও ইতোমধ্যে সংশোধন করা হয়েছে।

মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের বিস্তারিত তথ্য লিপিবদ্ধ করবেন।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের বিন্দুমাত্র সুযোগ রাখা হয়নি। তথ্য সংগ্রহকারী ও সুবিধাভোগী বাছাইয়ের কোনো পর্যায়ে কোনো রাজনৈতিক দলের পদধারী ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করা হয়নি। মাঠপর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে গঠিত নিরপেক্ষ কমিটি সম্পূর্ণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

কোথাও কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও সমন্বিতভাবে তা সমাধান করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি একটি সর্বজনীন নাগরিক কর্মসূচি হওয়ায় কারও অন্যায্য সুবিধা নেওয়ার সুযোগ নেই। প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনা হলো, প্রকৃত সুবিধাভোগীকে কোনো সুপারিশ বা দৌড়াদৌড়ি করে কার্ড নিতে হবে না এবং যোগ্য কেউ তালিকা থেকে বঞ্চিতও হবে না।

সংগৃহীত তথ্যের সুরক্ষায় ডেটাবেইসে দ্বিস্তরবিশিষ্ট উন্নত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। স্বয়ংক্রিয় বৈজ্ঞানিক মানদণ্ডের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে প্রতিটি প্রান্তিক পরিবারের সহায়তা পাওয়ার অধিকার।