অক্টোবর ১৩, ২০২৬, ০৪:২৩ পিএম
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো ধরনের বিতর্ক বা কলঙ্কের দায় সরকার নেবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
আসন্ন নির্বাচনে সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ রাখার নির্দেশ দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। আগামী জুনের মধ্যে স্থানীয় সরকারের পাঁচ ধরনের নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করে নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এই নির্বাচনী কর্মযজ্ঞ সফল করতে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে গ্রাম পুলিশ সমাবেশ আয়োজনের প্রস্তুতিমূলক সভার শুরুতে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা তুলে ধরেন।
মীর শাহে আলম বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে কোনো ধরণের অনিয়ম বা কলঙ্কের দায়ভার বর্তমান সরকার বহন করতে রাজি নয়। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় মাঠপর্যায়ের বেসামরিক প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীকে কাজ করতে হবে। নির্বাচনের মাঠে কোনো প্রার্থী যাতে বাড়তি বা অন্যায্য সুযোগ-সুবিধা না পান, তা নিশ্চিতে সরকার কঠোর অবস্থানে থাকবে।
বিগত দিনের বিতর্কিত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা পেছনে ফেলে আসন্ন ভোট কোনো মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, কোনো রোল মডেল তৈরির দাবি তারা করছেন না। বরং দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য। মানুষ যাতে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সে পরিবেশ নিশ্চিতের চেষ্টা চলছে।
নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সরকারের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, নির্বাচন কমিশনকে সার্বিক সহায়তা দেওয়াই সরকারের কাজ, তবে নির্বাচন পরিচালনার যাবতীয় কর্তৃত্ব এককভাবে কমিশনের। সরকার কিংবা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রক্রিয়ায় কোনো ধরণের হস্তক্ষেপ না করার নীতিতে অটল রয়েছে প্রশাসন।
বাজেট বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহারের বিষয়ে তিনি সতর্কবার্তা দেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মধ্যেই সব নির্বাচন শেষ করতে নির্বাচন কমিশনকে বারবার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কমিশন ভোট আয়োজন করতে ব্যর্থ হলে বরাদ্দের অর্থ পরবর্তী অর্থবছরে স্থানান্তরিত হয়ে যাবে। প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, তবে সেই অর্থ চলতি অর্থবছরে কাজে লাগানো কমিশনের সদিচ্ছা ও পরিকল্পনার ওপর নির্ভর করছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকারের পাঁচ স্তরের নির্বাচন আগামী জুনের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। তবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন মে মাস পর্যন্ত গড়ালে বাকি নির্বাচনগুলো নির্ধারিত সময়ে শেষ করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
এ বিষয়ে মীর শাহে আলম মন্তব্য করেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার সক্ষমতা কতটুকু আছে তা নির্বাচন কমিশনই ভালো বলতে পারবে। নির্বাচন পরিচালনার সাংবিধানিক দায়িত্ব তাদের ওপরই ন্যস্ত।
নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণে নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। সেখানে কয়েকটি নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে এবং বাকি তারিখগুলো আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত হবে।
সাংবাদিকদের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার নির্ধারিত সময়ে স্বচ্ছ নির্বাচন চায় এবং এ লক্ষ্যে কমিশনকে যেকোনো প্রশাসনিক সহায়তা প্রদানে তারা প্রস্তুত।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন