অক্টোবর ১৭, ২০২৬, ০৫:০৩ পিএম
রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক এলাকা এবং হকারমুক্ত ফুটপাত আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মাত্র সাড়ে চার ঘণ্টার মধ্যে তিনি রাজধানীর মোট ১৩টি স্থান সরেজমিনে ঘুরে দেখেন।
পরিদর্শনকালে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও সার্বিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা দেখে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
শনিবার সকাল নয়টা ১০ মিনিটে এই পরিদর্শন শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুর একটা ৪১ মিনিট পর্যন্ত একটানা বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন তিনি। সরেজমিনে পরিদর্শনকালে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেন এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর নাগরিক সেবার মান, পরিচ্ছন্নতা ও দাপ্তরিক শৃঙ্খলা পর্যবেক্ষণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী সকালে সর্বপ্রথম উত্তরার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শনে যান। সেখানে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশের সার্বিক অবস্থা দেখে অসন্তোষ জানিয়ে পরিবেশগত উন্নয়নে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের সময় বেঁধে দেন।
এরপর তিনি রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ এবং মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিদর্শন করেন। সেখান থেকে মিরপুরের ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ, পাইকপাড়া স্টাফ কোয়ার্টার ও সরকারি বাঙলা কলেজে যান প্রধানমন্ত্রী।
পরবর্তীতে আগারগাঁও এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ঘুরে দেখেন তিনি। এরপর নিজের সাবেক বিদ্যাপীঠ ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে যান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন এবং একটি পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে সম্পৃক্ত হওয়ার পাশাপাশি বেশি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান।
পরিদর্শনের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী ধানমণ্ডি সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, কলাবাগান স্টাফ কোয়ার্টার এবং আজিমপুর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কোয়ার্টারে যান। এ ছাড়া মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকার হকারমুক্ত ফুটপাতের সার্বিক অবস্থাও পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।
আজিমপুর সরকারি কোয়ার্টারের অস্বাস্থ্যকর ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করে গোটা চত্বর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দুই সপ্তাহের চরমসীমা বেঁধে দেন প্রধানমন্ত্রী।
এদিকে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলামের কক্ষে যান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ওই চিকিৎসককে প্রকাশ্যেই ধূমপান করতে দেখা যায়। পাশাপাশি তার কক্ষটিও ছিল চরম অপরিচ্ছন্ন।
দায়িত্ব চলাকালে এমন শৃঙ্খলাভঙ্গ দেখে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে শিশু হাসপাতালের চেয়ারম্যানকে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর সেই সরাসরি নির্দেশনার পরপরই সহযোগী অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলামকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন