অক্টোবর ১৭, ২০২৬, ০৮:২৫ পিএম
সবার আগে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে একটি সমৃদ্ধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনে দেশের তরুণ ও যুবসমাজকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করেছেন, কোনো জাতি বা সমাজকে এগিয়ে নিতে যুবসমাজের ভূমিকাই সর্বাধিক এবং দেশের প্রতিটি ঐতিহাসিক অর্জনের পেছনে রয়েছে তাদের নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) যুব ভলান্টিয়ার এবং বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে আয়োজিত `ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড` প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রাজধানীর শাপলা হল থেকে সরাসরি আয়োজিত এই রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন দেশের ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপার এবং শত শত তরুণ স্বেচ্ছাসেবী প্রতিনিধি।
ইতিহাস বিনির্মাণে তরুণদের অদম্য শক্তির দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন সরকারপ্রধান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অলিম্পিকের মঞ্চে পদক জয় থেকে শুরু করে হিমালয়ের চূড়া জয় কিংবা উত্তাল সমুদ্র পাড়ি দেওয়া—সব ঐতিহাসিক অর্জনেই তরুণদের দুর্দমনীয় সাহসের প্রকাশ ঘটেছে। একইভাবে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অস্ত্র হাতে রণাঙ্গনে লড়াই করা কিংবা ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানকে সফল পরিণতির দিকে নিয়ে যাওয়ার প্রধান রূপকার ছিল এই দেশের নির্ভীক তরুণ প্রজন্ম।
তরুণ উদ্যোক্তা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবকদের উৎসাহিত করতে সরকারের সুনির্দিষ্ট আর্থিক উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তারেক রহমান।
তিনি জানান, তরুণদের উদ্ভাবনী উদ্যোগ ও স্টার্টআপ ব্যবসাকে গতিশীল করতে সরকার প্রাথমিকভাবে ৫০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ স্টার্টআপ ফান্ড গঠন করেছে। এই তহবিল থেকে সহায়তা নিয়ে তরুণরা যেসব বাস্তবমুখী আবিষ্কার ও সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ করবেন, তা যদি সাধারণ মানুষের জীবনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে, তবে আগামীতে এ তহবিলের বরাদ্দের আকার আরও সম্প্রসারিত করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান প্রশাসনের মূল ও একমাত্র লক্ষ্য হলো সাধারণ মানুষের সামগ্রিক জীবনযাত্রার মান উন্নত করা।
যুব সমাজের আদর্শিক লক্ষ্য এবং সরকারের জনকল্যাণমূলক উদ্দেশ্যের মধ্যে কোনো মৌলিক ব্যবধান নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, জনগণের ন্যায্য স্বার্থকে সর্বাগ্রে স্থান দিলেই কেবল একটি সার্বজনীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে সমাজসেবা ও জাতি গঠনে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত তরুণ স্বেচ্ছাসেবী এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান সরকারপ্রধান।
একই সঙ্গে সমাজের প্রতিটি স্তরে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে একনিষ্ঠভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার তাগিদ দেন তিনি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন