অক্টোবর ১৮, ২০২৬, ১০:৫০ পিএম
অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে নেমে তীব্র বিতর্কের মুখে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে তাকে আলাদাভাবে ডেকে পাঠানো হয়। ওই বৈঠকেই প্রধানমন্ত্রী সরাসরি তাকে পদত্যাগের এই কঠোর নির্দেশনা দেন বলে সরকার-সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এর আগে শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকায় প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে নামেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। সে সময় তার সঙ্গে থাকা বেশ কয়েকজন ব্যক্তির হাতেও আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়। এই অভিযানের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।
বিষয়টি দল ও সরকারের ভেতরেও ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি করে।
বিএনপি ও সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের ব্যক্তিদের মতে, মাদকবিরোধী যেকোনো উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও একজন প্রতিমন্ত্রীর নিজে অস্ত্র হাতে রাস্তায় নামা প্রশাসনিক ও রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। মাদক দমনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ না দিয়ে তিনি কেন নিজেই অস্ত্র নিয়ে অভিযানে গেলেন, তা নিয়ে খোদ প্রশাসনের ভেতরেই প্রশ্ন ওঠে।
এমন এক সময়ে ঘটনাটি ঘটে যখন সরকারপ্রধান স্বয়ং সক্রিয় ছিলেন।
শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর অন্তত ১৩টি স্থানে আকস্মিক পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বিভিন্ন হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি আবাসিক এলাকার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং সেবার মান তদারকি করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সরাসরি নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি সেবার মানোন্নয়নে নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর এই ইতিবাচক মাঠপর্যায়ের তদারকির দিনই বিকেলে গেন্ডারিয়ায় ইশরাকের এই ঘটনা ঘটে। এতে সরকারের অর্জন আড়ালে চলে যায় বলে মনে করছেন দায়িত্বশীলরা।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির একজন সদস্যের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি কেবল প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং প্রধানমন্ত্রী ও পুরো মন্ত্রিসভাকে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে ফেলেছে। একজন প্রতিমন্ত্রীর এমন অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের দায় পুরো সরকার এড়াতে পারে না।
ঘটনার মাত্র এক দিনের মাথায় এই নির্দেশনাকে মন্ত্রিসভার শৃঙ্খলা, আচরণ ও জবাবদিহির ক্ষেত্রে সরকারপ্রধানের কঠোর অবস্থানের বার্তা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন