অক্টোবর ২১, ২০২৬, ০২:২৭ পিএম
গুজব, অপপ্রচার ও উগ্রতার মাধ্যমে সমাজে বিভেদ সৃষ্টির যেকোনো তৎপরতার বিরুদ্ধে সবাইকে অবিচল থাকার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কোনো অশুভ শক্তি যাতে দেশের সংহতি বিনষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন।
বুধবার সকালে শারদীয় দুর্গাপূজা ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে বঙ্গভবনে আয়োজিত এক বিশেষ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের তরুণ সমাজকে সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে জোরালো ভূমিকা রাখার তাগিদ দেন তিনি। রাষ্ট্রপ্রধান উল্লেখ করেন, এই ভূখণ্ড প্রতিটি নাগরিকের এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ, সংঘাত ও হানাহানির বিপরীত চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশে সব ধর্মের নাগরিকেরা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে নিজ নিজ আচার পালন করছেন। এই ঐতিহ্যবাহী সম্প্রীতিই এ জাতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। যেকোনো পরিস্থিতিতে এই আত্মিক বন্ধন অটুট রাখতে হবে।
তিনি জানান, এ ভূখণ্ডের মানুষ আবহমানকাল ধরে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যের ওপর ভর করেই শত শত বছর ধরে বিভিন্ন বিশ্বাসের মানুষ এখানে একত্রে বাস করছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বৈরাচারবিরোধী প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সক্রিয় অংশগ্রহণই আমাদের জাতীয় ঐক্যের মূল ভিত্তি।
দুর্গাপূজার অন্তর্নিহিত তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এই উৎসবের মূল দর্শন হলো অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য, শুভ ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা। ধর্ম, বর্ণ বা জাতিগত পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিক যাতে সামান্যতম বৈষম্য বা নির্যাতনের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। সব ধর্মের মানুষের সমান নাগরিক অধিকার ও সুযোগ সুরক্ষায় তিনি একটি কার্যকর জাতীয় কমিটি গঠনের আহ্বান জানান।
তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, ধর্ম যার যার, কিন্তু রাষ্ট্র সবার; ঠিক একইভাবে নিরাপত্তা ও সমঅধিকার পাওয়ার অধিকারও প্রতিটি নাগরিকের। দেশের সংবিধানের আলোকেই প্রতিটি নাগরিক সমান মর্যাদা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করবেন এবং এই সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষায় প্রশাসন প্রতিশ্রুত।
সব ধর্মের নাগরিকেরা যাতে নির্বিঘ্নে ও আনন্দঘন পরিবেশে ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করতে পারেন, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মাঠ প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে বঙ্গভবনের দরবার হলে রাষ্ট্রপতি পৌঁছালে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে তাঁকে ফুলেল অভ্যর্থনা জানানো হয়। এ সময় হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ এবং মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির শীর্ষ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তাঁর সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম উপস্থিত থেকে আগত অতিথি ও বিশিষ্টজনদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
এ সময় সরকারের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন, প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার এবং রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তথ্যসূত্র: বাসস

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন