বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬,

সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের মৃত্যুদণ্ড আগে বা পরে কিছুই জানানো হয়নি

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ২১, ২০২৬, ০৯:২৭ পিএম

সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের মৃত্যুদণ্ড আগে বা পরে কিছুই জানানো হয়নি

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস কিংবা কনস্যুলেট জেনারেলকে আগে থেকে কোনো তথ্য দেয়নি দেশটির কর্তৃপক্ষ। এমনকি দণ্ড কার্যকরের পরও বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকাকে অবহিত করা হয়নি। স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে পুরো বিষয়টি জানতে পেরেছে জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন।

গত ১৮ অক্টোবর প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক জরুরি চিঠিতে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের শ্রমকল্যাণ উইং। চিঠির তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতির বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে দুই বাংলাদেশির প্রাণদণ্ড কার্যকর করার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি হলেন নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তার।

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, মক্কা অঞ্চলে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। পবিত্র মক্কা নগরীর একটি মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কার্যকলাপে লিপ্ত হয়ে মসজিদের পবিত্রতা ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ আনা হয়েছিল তাদের বিরুদ্ধে। তবে দণ্ড কার্যকর করা ব্যক্তিদের বিষয়ে এর বাইরে বিস্তারিত কোনো তথ্য সরবরাহ করেনি সৌদি কর্তৃপক্ষ।

সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন কারাগারে অপরাধের অভিযোগে আটক বাংলাদেশিদের হালনাগাদ তথ্য চেয়ে এর আগেই দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছিল জেদ্দা কনস্যুলেট। সেই অনুরোধের সূত্রে গত ৩০ সেপ্টেম্বর একটি বন্দিতালিকা পায় বাংলাদেশ মিশন।

সেই তালিকায় নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে সেখানে তাদের কারও দণ্ড বা সম্ভাব্য সাজার বিষয়ে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, তারা দুজনই সৌদি আরবের আল মাজাল নামের একটি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।

তালিকায় প্রাপ্ত বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১ আগস্ট তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগে নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর ঠিক পরদিন ব্যভিচারের অভিযোগে আটক হন সুইটি আক্তার। আটকের পর নজরুলকে জেদ্দা সংশোধনাগারে এবং সুইটিকে জেদ্দার কেন্দ্রীয় নারী কারাগারে রাখা হয়েছিল।

এমন অভিযোগে কোনো বাংলাদেশিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ঘটনা দেশটিতে আগে ঘটেনি বলে কনস্যুলেটের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

চিঠিতে স্পষ্ট জানানো হয়, তথ্যপ্রযুক্তি আইন লঙ্ঘন কিংবা অনৈতিক কার্যকলাপের মতো অভিযোগে ইতিপূর্বে কোনো বাংলাদেশিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার কোনো নজির সৌদি আরবে নেই। প্রাপ্ত সরকারি তালিকা অনুযায়ী, সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলীয় কারাগারগুলোতে নৈতিকতা সংক্রান্ত বিভিন্ন মামলায় মোট ৩০৬ জন বাংলাদেশি নাগরিক বন্দি রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৪৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতের সাজা ঘোষণা হয়েছে, যার মেয়াদ সর্বনিম্ন এক মাসের কারাদণ্ড থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১৫ বছর পর্যন্ত।

এদিকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া এই দুই নাগরিকের পরিবারের পক্ষ থেকে আইনি সহায়তা চেয়ে জেদ্দা কনস্যুলেটে কোনো আবেদন করা হয়নি এবং তাদের স্বজনরা এ বিষয়ে মিশনের সাথে কোনো যোগাযোগও করেননি। পাশাপাশি সৌদি কর্তৃপক্ষও তাদের আদালতের বিচার, চূড়ান্ত রায় কিংবা তা কার্যকর করার বিষয়ে কোনো কূটনৈতিক বার্তা দেয়নি।

ঘটনার বিস্তারিত জানতে এবং আদালতের রায়ের আনুষ্ঠানিক অনুলিপি সংগ্রহের জন্য সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা শাখায় এরই মধ্যে একটি কূটনৈতিক নোট পাঠিয়েছে জেদ্দা কনস্যুলেট জেনারেল। রায়ের আনুষ্ঠানিক কপি হাতে পাওয়ার পর এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাঠানো হবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।