শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

শেষ হচ্ছে অপেক্ষা; আগামীকাল দেশে ফিরছেন তারেক রহমান

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ডিসেম্বর ২৪, ২০২৫, ০৯:৫৭ এএম

শেষ হচ্ছে অপেক্ষা; আগামীকাল দেশে ফিরছেন তারেক রহমান

অবশেষে সব জল্পনা-কল্পনা ও উৎকণ্ঠার অবসান ঘটিয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দীর্ঘ ১৭ বছর পর নিজ জন্মভূমিতে ফিরে আসছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যাওয়ার পর এটিই হবে তার প্রথম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন।

তার এই ফিরে আসাকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বইছে উৎসবের আমেজ, আর বিএনপি নেতাকর্মীরা একে অভিহিত করছেন ‘অনন্য এক ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন’ হিসেবে।

মুক্তিযুদ্ধ থেকে রাজপথ: বর্ণাঢ্য এক যাত্রা তারেক রহমানের রাজনৈতিক সচেতনতা শুরু শৈশব থেকেই। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় শিশু অবস্থাতেই মায়ের সাথে কারাবন্দী থাকতে হয়েছিল তাকে।

১৯৮৮ সালে বগুড়ার গাবতলী উপজেলা বিএনপির সদস্য হিসেবে আনুষ্ঠানিক রাজনীতি শুরু করেন। ২০০১ এর নির্বাচনের আগে তৃণমূলের সমস্যা সমাধানে ‘তৃণমূল সভা’র মাধ্যমে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান। ২০০২ সালে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং ২০০৯ সালে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।লন্ডন থেকে নেপথ্য কারিগর ২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী সময়ে রিমান্ডে অকথ্য নির্যাতনের শিকার হয়ে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তিনি লন্ডনে পাড়ি জমান। প্রবাসে থেকেও তিনি ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে দলকে সংগঠিত করেছেন।

নেতাকর্মীদের দাবি, ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কর্মীদের উজ্জীবিত রাখতে নেপথ্যে নিখুঁত কৌশলী ভূমিকা পালন করেছেন তারেক রহমান। রাষ্ট্র মেরামতের সংস্কার ভাবনা ও অন্তর্বর্তী সরকারকে সহযোগিতার পাশাপাশি রাজনৈতিক সরকারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তার বক্তব্য তৃণমূল কর্মীদের নতুন দিশা দিয়েছে।

প্রত্যাবর্তনের তাৎপর্য বিএনপি নেতারা বলছেন, তারেক রহমানের এই ফেরা কেবল একজন ব্যক্তির ফেরা নয়, বরং এটি জাতীয়তাবাদী চেতনার পুনর্জাগরণ। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে মা বেগম খালেদা জিয়ার সাথে তার দেখা হয়নি। আগামীকাল বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাতে লাখো মানুষের ঢল নামার সম্ভাবনা রয়েছে। পলিমাটির সৌরভ গায়ে মেখে তারেক রহমান এবার সরাসরি নেতৃত্ব দেবেন দলকে, যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে।