শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

যে কারণে ২৫ ডিসেম্বরই তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ডিসেম্বর ২৫, ২০২৫, ১১:৪১ এএম

যে কারণে ২৫ ডিসেম্বরই তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন

দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাস জীবনের ইতি টেনে আজ বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দেশের মাটিতে পা রাখছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে অবতরণের পর বর্তমানে তিনি ঢাকার পথে। দুপুর ১২টার দিকে তার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা রয়েছে।

তবে প্রশ্ন উঠেছে, হাজারো তারিখের ভিড়ে কেন ২৫ ডিসেম্বরকেই বেছে নেওয়া হলো? বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক এবং অভ্যর্থনা কমিটির সদস্য অধ্যাপক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল এর তিনটি প্রধান কারণ ব্যাখ্যা করেছেন:

২৫ ডিসেম্বর যিশু খ্রিস্টের জন্মদিন বা বড়দিন উপলক্ষে সরকারি ছুটি। এর পরবর্তী দুদিন (শুক্রবার ও শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটি।

টানা তিন দিনের বন্ধ থাকায় সাধারণ কর্মদিবসের তুলনায় রাস্তায় অফিসগামী মানুষের চাপ কম থাকবে। এতে লাখ লাখ নেতাকর্মী সমবেত হলেও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ন্যূনতম পর্যায়ে রাখা সম্ভব হবে।ডিসেম্বরের এই সময়ে দেশের প্রায় সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হয়ে যায়। শিক্ষার্থীরা পড়ালেখার চাপমুক্ত থাকে এবং অনেক পরিবারই ভ্রমণে বের হয়। ফলে বড় ধরনের রাজনৈতিক জমায়েত হলেও শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম বা পরীক্ষা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি থাকে না।প্রথাগতভাবে বড় রাজনৈতিক সমাবেশগুলো সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বা মানিক মিয়া এভিনিউতে করা হয়, যা পুরো ঢাকাকে অচল করে দেয়।

কিন্তু জনস্বার্থ বিবেচনায় এবার সংবর্ধনা স্থল বেছে নেওয়া হয়েছে শহরের একপ্রান্তে অর্থাৎ পূর্বাচল ৩০০ ফিট এলাকায়। এর ফলে মূল ঢাকা শহরের ভেতরের ট্রাফিক ব্যবস্থা অনেকটাই স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হচ্ছে।জনগণের সেবায় বিশেষ উদ্যোগ: অধ্যাপক পাভেল জানান, কেবল তারিখ বা স্থান নির্বাচনই নয়, নেতাকর্মীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে মহাখালী, আব্দুল্লাহপুর এবং বিমানবন্দরের সামনে বিশেষ হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে। এসব ডেস্কের স্বেচ্ছাসেবকরা বিদেশগামী যাত্রী এবং জরুরি রোগীদের বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সগুলোকে বিশেষ ‘এসকর্ট সার্ভিস’ দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছে দিচ্ছেন।

পরিবারের অনুষ্ঠানের মতো জনবান্ধব চিন্তা: বিষয়টিকে একটি বড় পারিবারিক অনুষ্ঠানের সঙ্গে তুলনা করে বিএনপি নেতারা বলছেন, যেমন বাড়ির বড় কোনো অনুষ্ঠানের জন্য ছুটির দিন ও এমন জায়গা বেছে নেওয়া হয় যাতে প্রতিবেশীদের পথ বন্ধ না হয়, তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন পরিকল্পনায়ও ঠিক একই জনবান্ধব চিন্তা কাজ করেছে।সকাল থেকেই প্রিয় নেতাকে বরণ করতে ৩০০ ফিট এক্সপ্রেসওয়েতে জড়ো হওয়া লাখো মানুষের কণ্ঠে এখন একটাই স্লোগান— ‘লিডার আসছে’।