ডিসেম্বর ২৮, ২০২৫, ১০:০৬ এএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মোড় নিতে যাচ্ছে। দীর্ঘ আলোচনা ও অভ্যন্তরীণ নানা নাটকীয়তা শেষে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে আসন সমঝোতা ও রাজনৈতিক ঐক্য চূড়ান্ত করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি। আজ রোববার এই বহুল আলোচিত জোটের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটার কথা রয়েছে।
এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্ব দলের ভেতরে থাকা সমালোচনা ও একাংশের আপত্তি সত্ত্বেও বৃহত্তর স্বার্থে এই নির্বাচনী কৌশলগত ঐক্যের সিদ্ধান্তে অনড় অবস্থানে রয়েছেন। মূলত সংস্কার এবং নির্বাচনী বৈতরণী পার হতেই জামায়াতের সঙ্গে এই সমঝোতা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির ২১৬ জন সদস্যের মধ্যে ১৮৪ জনই জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।
তবে দলের একটি অংশ এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে ৩০ জন কেন্দ্রীয় নেতা উল্লেখ করেছেন যে জামায়াতের অতীত রাজনৈতিক ইতিহাস এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে এই জোট সাংঘর্ষিক। এই বিরোধের জেরে ঢাকা-৯ আসনের প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা এবং চট্টগ্রাম-১৬ আসনের প্রার্থী মীর আরশাদুল হক দল থেকে পদত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছেন। তাসনিম জারা জানিয়েছেন তিনি কোনো দলের হয়ে নয় বরং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
দলটির নারীনেত্রীসহ আরও কয়েকজন পদত্যাগ করতে পারেন এমন গুঞ্জনও রয়েছে।এনসিপির শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন যে জামায়াত, এনসিপি এবং এবি পার্টিসহ আটদলীয় জোটের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক মোর্চা গঠন করা হচ্ছে। এই সমঝোতার আওতায় এনসিপি অন্তত ৪০টি আসনে জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পাবে বলে আশা করছে।
দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে জোটের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলেও আলোচনা চলছে। এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব জয়নাল আবেদিন শিশির জানিয়েছেন যে বিএনপি বাদে জুলাই বিপ্লবের সকল শক্তি এক হলে সরকার গঠনের মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে। জামায়াত সূত্রও নিশ্চিত করেছে যে মিত্রদের জন্য তারা অন্তত ১০০ থেকে ১৫০টি আসন ছেড়ে দিয়ে বাকিগুলোতে দলীয় প্রার্থী দেবে। আজ সন্ধ্যার মধ্যেই এই জোটের পূর্ণাঙ্গ রূপ দেশবাসীর সামনে উন্মোচিত হতে পারে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন