ডিসেম্বর ২৮, ২০২৫, ০১:৪৯ পিএম
জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) ভাঙন ও অস্থিরতা আরও তীব্রতর হয়ে উঠেছে। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট গঠনের প্রতিবাদে এবং দলের অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করেছেন এনসিপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনূভা জাবীন।
রোববার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক দীর্ঘ আবেগঘন পোস্টে তিনি দল ছাড়ার ঘোষণা দেন। তিনি অভিযোগ করেন।
এনসিপি বর্তমানে যে প্রক্রিয়ায় জামায়াতের সঙ্গে জোটে যাচ্ছে, সেটি কোনো রাজনৈতিক কৌশল নয় বরং একটি সুপরিকল্পিত ‘জিম্মি দশা’ এবং সাধারণ কর্মীদের সঙ্গে স্পষ্ট প্রতারণা।
তাজনূভা জাবীন তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন যে জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়ে ঐতিহাসিক বা আদর্শিক আপত্তির চেয়েও বড় কারণ হলো যে প্রক্রিয়ায় এই সমঝোতা করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, দলের শীর্ষ নেতারা সুকৌশলে ৩০০ আসনে একক প্রার্থীর ঘোষণা দিয়ে ১২৫ জনকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন, কিন্তু শেষ মুহূর্তে জামায়াতের জন্য আসন ছেড়ে দিয়ে বাকিদের নির্বাচন করার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আগামীকাল মনোনয়নপত্র জমার শেষ তারিখ হওয়া সত্ত্বেও এনসিপির প্রার্থীদের স্বতন্ত্রভাবে দাঁড়ানোর সুযোগও রাখা হয়নি।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান থেকে জন্ম নেওয়া একটি দল কেন নিজের স্বকীয়তা প্রতিষ্ঠার আগে জামায়াতের অধীনে মাত্র ৩০টি আসনে সমঝোতা করতে মরিয়া হয়ে উঠল।পদত্যাগকারী এই নেত্রী আরও অভিযোগ করেন যে এনসিপির ভেতর ‘মাইনাস পলিটিক্স’ বা একে অপরকে সরিয়ে দেওয়ার রাজনীতি চরম আকার ধারণ করেছে। যারা আসলেই জুলাইয়ের স্পিরিট ও মধ্যপন্থার রাজনীতি ধারণ করতেন, তাঁদের ‘আবেগী’ তকমা দিয়ে এমপাওয়ার করা হয়নি।
তাজনূভা আরও বলেন, নেতারা মুখে জবাবদিহিতার কথা বললেও দলের ভেতরে একনায়কতন্ত্র চলছে। এমনকি জামায়াত-চরমোনাই জোটের যেখানে ৭০টি আসন সমঝোতা হচ্ছে, সেখানে এনসিপিকে কেন কোণঠাসা করা হলো, সেই দূরদর্শিতা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। পদত্যাগের পাশাপাশি তিনি তাঁর নির্বাচনী প্রচারণার জন্য প্রাপ্ত সকল অনুদান দাতা বা ডোনারদের ফেরত দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন