জানুয়ারি ১, ২০২৬, ১১:১২ এএম
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের শুরুর দিকে ভারতের এক কূটনীতিকের সঙ্গে তার একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে ওই কূটনীতিকের অনুরোধেই বিষয়টি এতদিন গোপন রাখা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেছেন।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে জামায়াত আমির এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেন। গত বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) নিজের বাসভবনে এই সাক্ষাৎকার দেন তিনি। ডা. শফিকুর রহমান জানান, তার বাইপাস সার্জারির পর ওই বৈঠকটি হয়েছিল।
বৈঠক গোপন রাখার কারণ: জামায়াত আমির রয়টার্সকে বলেন, অন্যান্য দেশের কূটনীতিকরা যেভাবে প্রকাশ্যে তার সঙ্গে দেখা করেন, ভারতীয় কূটনীতিক সেটি করতে চাননি।
তিনি প্রশ্ন রেখেছিলেন, ‘কেন গোপন রাখতে হবে? অনেক কূটনীতিক প্রকাশ্যে এসেছেন, সমস্যা কোথায়?’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের একে অপরের কাছে উন্মুক্ত হতে হবে। সম্পর্কের উন্নয়ন ছাড়া বিকল্প নেই। আমরা অন্তত পাঁচ বছরের জন্য একটি স্থিতিশীল দেশ চাই।’
নির্বাচন ও ঐক্যবদ্ধ সরকার: ডা. শফিকুর রহমান জানান, আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত তাদের সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে অংশ নেবে। তিনি বলেন, ‘আমরা একটি ঐক্যবদ্ধ সরকার গঠনের বিষয়ে আগ্রহী এবং বেশ কয়েকটি দলের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
যদি জামায়াত সবচেয়ে বেশি আসন পায়, তবে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন সেটি দল ঠিক করবে।’ দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানকে যে কোনো ঐক্যবদ্ধ সরকারের মূল এজেন্ডা হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ভারত ও শেখ হাসিনা প্রসঙ্গ: সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার পতনের পর দুই দেশের সম্পর্ক কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।
পাকিস্তানের সঙ্গে জামায়াতের ঐতিহাসিক ঘনিষ্ঠতা নিয়ে করা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা সবার সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক চাই, কোনো বিশেষ দেশের দিকে ঝুঁকে পড়তে আগ্রহী নই।’
রাষ্ট্রপতি ও অন্যান্য: জামায়াত আমির স্পষ্ট জানিয়ে দেন, জামায়াতকে নিয়ে গঠিত কোনো সরকার বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে নিয়ে ‘স্বস্তি বোধ’ করবে না। এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতি রয়টার্সকে টেলিফোনে জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি নিয়ে আর জটিলতা বাড়াতে চান না।
জামায়াত আমিরের এই বক্তব্যের বিষয়ে রয়টার্স ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্তব্য জানতে চাইলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে ভারতের একটি সরকারি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গেই যোগাযোগ রক্ষা করছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন