জানুয়ারি ৪, ২০২৬, ০৯:৪৮ এএম
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১-দলীয় জোটে আসন সমঝোতা নিয়ে চলা দীর্ঘ স্নায়ুযুদ্ধ ও অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন অবশেষে স্বস্তিতে রূপ নিচ্ছে। শুক্রবার রাতে জোটের শীর্ষ নেতাদের এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে গত কয়েকদিনের ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়েছে।
আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে আসন সমঝোতাসহ ১১-দলীয় জোটের নির্বাচনি কার্যক্রমের সামগ্রিক রূপরেখা দেশবাসীকে জানানো হবে বলে জোটের শীর্ষ নেতারা নিশ্চিত করেছেন।
জোটের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহে জামায়াত, ইসলামী আন্দোলনসহ ৮-দলীয় জোটে নতুন করে এনসিপি, এলডিপি ও এবি পার্টি যুক্ত হওয়ার পর আসন বণ্টন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়।
বিশেষ করে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে বিরোধ অনেকটা প্রকাশ্যে আসে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ইসলামী আন্দোলন ২৭২ আসনে এবং জামায়াত ২৭৬ আসনে এককভাবে মনোনয়নপত্র দাখিল করে। ইসলামী আন্দোলনের নেতারা আসন সমঝোতা না হলে একক নির্বাচনের ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন। তবে শুক্রবারের বৈঠকে দুই দলের শীর্ষ নেতারা নমনীয় অবস্থানে আসায় সংকট কেটেছে।
আসন বিন্যাসের প্রাথমিক পরিকল্পনায় জামায়াত ১৭১টি আসন নিজের জন্য রেখে বাকি ৭৭টি শরিকদের ছাড় দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ৫২টি আসনে জরিপ করার প্রস্তাব থাকলেও সেখানে জামায়াত অতিরিক্ত ২২টি আসন দাবি করায় অন্য দলগুলো আপত্তি তোলে। এছাড়া নতুন যুক্ত হওয়া তিন দলকে ১৬টি আসন ছেড়ে দেওয়ার জন্য ইসলামী আন্দোলনের ভাগ থেকে আসন কমানোর প্রস্তাব নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল।
বর্তমান সমঝোতা অনুযায়ী, আসনগুলোতে যে দলের প্রার্থীর অবস্থান শক্তিশালী এবং জয়ের সম্ভাবনা বেশি, তাকেই জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হবে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমদ জানিয়েছেন, "ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়েছে এবং আসন সমঝোতা একটি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।" একইভাবে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যেই আসন বিন্যাস পরিষ্কার হয়ে যাবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন