বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

আসন নিয়ে চাপ বাড়ছে ১১ দলীয় জোটে

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ৭, ২০২৬, ১২:১৭ পিএম

আসন নিয়ে চাপ বাড়ছে ১১ দলীয় জোটে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) ১১টি দলের সমন্বয়ে নতুন রাজনৈতিক জোট আত্মপ্রকাশ করলেও আসন ভাগাভাগি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি শীর্ষ নেতারা।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ২০ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। এই সময়সীমা যত ঘনিয়ে আসছে, জোটভুক্ত দলগুলোর ওপর আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করার চাপ ততই বাড়ছে।

যদিও জোটের নেতারা দাবি করছেন আলোচনা অত্যন্ত ইতিবাচক পথেই এগোচ্ছে এবং দু-এক দিনের মধ্যেই ৩০০ আসনের চূড়ান্ত রূপরেখা ঘোষণা করা সম্ভব হবে।

জোটের অভ্যন্তরীণ সূত্র থেকে জানা গেছে, জামায়াতে ইসলামী তাদের শরিক দলগুলোর জন্য আনুমানিক ১১০টি আসন ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে ইসলামী আন্দোলনের জন্য ৩৫ থেকে ৪০টি, এনসিপির জন্য ৩০টি এবং খেলাফত মজলিসের জন্য ১৫টি আসনের কথা ভাবা হচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ১০টি, এবি পার্টি ৩টি, এলডিপি ৩টি, বিডিপি ২টি, জাগপা ৩টি, খেলাফত আন্দোলন ৪টি এবং নেজামে ইসলাম পার্টিকে ২টি আসন দেওয়ার প্রস্তাব আলোচনায় রয়েছে।

তবে কোনো দলই এখনো এই সংখ্যা চূড়ান্ত বলে মেনে নেয়নি। দরকষাকষিতে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকার কৌশলে ৩০০ আসনের বিপরীতে জোটের পক্ষ থেকে ৬০০-এর বেশি প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে রেখেছেন।বিশেষ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির আসন সংখ্যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এনসিপি ১০টির বেশি আসন পাচ্ছে না বলে গুজব ছড়ালেও দলটির নেতারা তা নাকচ করে দিয়েছেন।

এনসিপির দাবি অনুযায়ী, তাদের ২৫টি আসন ইতিমধ্যে নিশ্চিত হয়েছে এবং তারা ৩০ থেকে ৩৫টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এনসিপির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১, আখতার হোসেন রংপুর-৪, হাসনাত আব্দুল্লাহ কুমিল্লা-৪ এবং সারজিস আলম পঞ্চগড়-১ আসন থেকে নির্বাচন করার বিষয়টি অনেকটা নিশ্চিত। এসব আসনে জামায়াতের প্রার্থীরা ইতিমধ্যেই এনসিপিকে সমর্থন জানিয়ে সরে দাঁড়িয়েছেন।

অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর আসন সমঝোতা নিয়ে কিছুটা দূরত্ব থাকলেও তা কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। শুরুতে ইসলামী আন্দোলন ১২০ থেকে ১৫০টি আসনের দাবি জানালেও বর্তমানে তারা অন্তত ৭০টি আসনে ছাড় চাইছে। তবে জামায়াত তাদের ৩০ থেকে ৪০টি আসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চাওয়ায় দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে কিছুটা অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম স্পষ্ট করে বলেছেন যে আসন সমঝোতা হতে হবে ইনসাফের ভিত্তিতে। তবে জোটের অটুট ঐক্যের স্বার্থে উভয় পক্ষই ছাড় দিয়ে ১৯ জানুয়ারির মধ্যে একটি সম্মানজনক সমাধানে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদও নিশ্চিত করেছেন যে আসন নিয়ে বড় কোনো সংকট নেই এবং মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগেই সব চূড়ান্ত হয়ে যাবে।