বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

চরমোনাইয়ের জন্য এক ডজনের বেশি প্রার্থী না দিয়ে বিপাকে জামায়াত!

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ১৪, ২০২৬, ০২:০৫ পিএম

চরমোনাইয়ের জন্য এক ডজনের বেশি প্রার্থী না দিয়ে বিপাকে জামায়াত!

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট বড় ধরনের ভাঙনের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অনড় অবস্থানের কারণে জোটগত নির্বাচনের বিষয়টি এখন চরম অনিশ্চয়তায়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক সমঝোতার ভিত্তিতে জামায়াতে ইসলামী চরমোনাই পীর ও মাওলানা মামুনুল হকের দলের প্রার্থীদের বিপরীতে এক ডজনেরও বেশি আসনে তাদের নিজস্ব কোনো প্রার্থী দেয়নি। কিন্তু এই ‘ছাড়’ এখন জামায়াতের জন্যই বুমেরাং হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই আসনগুলোতে প্রার্থী না থাকায় দল দুটি জামায়াতের সঙ্গে দর কষাকষিতে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে।

সমঝোতায় বাধা কোথায়? জামায়াত তাদের জোটসঙ্গীদের জন্য ৪০টি আসন ছেড়ে দিতে রাজি হলেও ইসলামী আন্দোলন তাতে সন্তুষ্ট নয়। দেশব্যাপী বিশাল ভোট ব্যাংক রয়েছে দাবি করে তারা আরও বেশি আসনের দাবিতে অনড়। এমনকি জামায়াত ৪০টি আসনের বাইরেও কিছু আসন সবার জন্য উন্মুক্ত রাখতে চাইলেও চরমোনাই তাতে সায় দেয়নি।

অন্যদিকে, মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসও তাদের প্রকৃত শক্তির চেয়ে বেশি আসন দাবি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দফায় দফায় বৈঠক করেও এই দুই দলের সঙ্গে চূড়ান্ত বনিবনা না হওয়ায় তারা জোট থেকে বেরিয়ে আলাদাভাবে নির্বাচনের চিন্তাভাবনা করছে।

জোটের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ: আগে আট দলীয় ইসলামি জোটের ব্যানারে আন্দোলন চললেও সম্প্রতি জুলাইযোদ্ধাদের সংগঠন এনসিপি, অলি আহমদের এলডিপি এবং এবি পার্টি যুক্ত হয়ে ১১ দলীয় জোট গঠিত হয়। এনসিপি জোটে আসায় অন্য ইসলামি দলগুলোর গুরুত্ব কিছুটা কমেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এনসিপিকে ইতিমধ্যে ৩০টি আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার আসন ভাগাভাগি নিয়ে যৌথ ঘোষণার কথা থাকলেও তা সফল হয়নি। ৩০০ আসনের বিপরীতে বর্তমানে জোটের প্রায় ৬০০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে রেখেছেন।

আসন বণ্টনের বর্তমান চিত্র (সম্ভাব্য):

  • জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি): ৩০ আসন
  • বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস: ১৫ আসন
  • খেলাফত মজলিস: ১০ আসন
  • এলডিপি: ৭ আসন
  • এবি পার্টি: ৩ আসন
  • বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি: ২ আসন

জাগপা, নেজামে ইসলাম পার্টি এবং খেলাফত আন্দোলনের আসন প্রাপ্তির বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত ইসলামি দলগুলো জোটে থাকে নাকি আলাদা পথে হাঁটে, তা এখন দেখার বিষয়।