জানুয়ারি ১৪, ২০২৬, ০২:৪০ পিএম
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের আসন সমঝোতা বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা দিতে ডাকা সংবাদ সম্মেলনটি স্থগিত করা হয়েছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুর দুইটার পর ১১ দলের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিকেল ৪টায় রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের মুক্তিযোদ্ধা হলে এই সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। শেষ মুহূর্তে শরিক দলগুলোর মধ্যে আসন বণ্টন নিয়ে ঐকমত্য না হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এখানে উল্লেখ্য যে এই জোটের আসন সমঝোতা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই পর্দার আড়ালে তীব্র দরকষাকষি চলছিল। বিশেষ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাথে জামায়াতের আসন ভাগাভাগি নিয়ে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে।
জামায়াত ইসলামী তাদের জন্য ১৯০টি আসন বরাদ্দ রেখে বাকি ১১০টি আসন ১০টি শরিক দলের জন্য প্রস্তাব করেছিল। কিন্তু ইসলামী আন্দোলন অন্তত ৫০টির বেশি আসনের দাবি জানালেও জামায়াত তাদের সর্বোচ্চ ৪০টি আসন ছাড় দিতে রাজি হয়েছে। এই অসন্তোষের কারণেই মূলত জোটের ঐক্য এখন প্রশ্নের মুখে পড়েছে।ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে তাদের মজলিসে শূরার বৈঠকে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তারা জোটের এই আসন বণ্টনকে `অন্যায্য` হিসেবে অভিহিত করেছে।
দলটির নেতাদের ধারণা তাদের যে দেশব্যাপী ভোট ব্যাংক রয়েছে সেই তুলনায় আসন সংখ্যা অনেক কম। অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপিকে ৩০টি আসন দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় কওমি ঘরানার দলগুলো ক্ষুব্ধ হয়েছে। তারা মনে করছে শেষ সময়ে জোটে আসা দলকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আসলে এই সংবাদ সম্মেলন স্থগিত হওয়ার মধ্য দিয়ে ১১ দলীয় জোটের মধ্যে একটি গভীর সংকটের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ইসলামী আন্দোলন যদি শেষ পর্যন্ত এই সমঝোতা থেকে সরে দাঁড়ায় তবে জোটের শক্তিতে বড় ধরণের চিড় ধরবে। জোটের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ জানিয়েছেন তারা শরিকদের সাথে আরও আলোচনা করে নতুন তারিখ জানাবেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে জামায়াত নেতৃত্বাধীন এই ১১ দলীয় মোর্চা কতটুকু অটুট থাকবে তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন