জানুয়ারি ১৪, ২০২৬, ০৬:৫২ পিএম
এগারো দলীয় জোটের ঐক্য অটুট রাখার স্বার্থে ন্যায্যতার ভিত্তিতে এবং ইনসাফপূর্ণ উপায়ে আসন সমঝোতা হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন খেলাফত মজলিসের শীর্ষ নেতারা। বুধবার রাজধানীর শাহজাহানপুরের একটি মিলনায়তনে দলটির কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার এক জরুরি অধিবেশনে এই অবস্থান ব্যক্ত করা হয়। অধিবেশনে দলের নেতারা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে জাতির বড় প্রত্যাশা পূরণে এই জোটবদ্ধ ঐক্য ধরে রাখা অপরিহার্য।
খেলাফত মজলিসের নেতারা স্মরণ করিয়ে দেন যে এক আসনে একজন মাত্র ইসলামপন্থী প্রার্থী নিয়ে নির্বাচনী সমঝোতা বা ‘ওয়ান বক্স পলিসি’র আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবটি প্রথম পেশ করেছিলেন তাদের দলের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের।
দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয় যে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের সব শক্তির প্রথম ঐক্যবদ্ধ মঞ্চ তৈরিতেও তারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল।
বর্তমানে ১১ দলীয় নির্বাচনী সমঝোতার সাথে তারা আন্তরিকভাবে কাজ করে গেলেও সাম্প্রতিক আলোচনায় লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে দলটির অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী ও অঞ্চল নির্বাচন থেকে বাদ পড়ে যাচ্ছে। নেতারা মনে করেন এটি কেবল দলের জন্যই নয় বরং জোটের সংহতির জন্যও ক্ষতির কারণ হতে পারে। উল্লেখ্য যে সারাদেশে খেলাফত মজলিসের ৭৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ৭২ জনের মনোনয়নপত্র ইতোমধ্যে বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এমতাবস্থায় প্রতিটি বিভাগে ন্যূনতম প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করাকে ইনসাফের দাবি হিসেবে দেখছেন তারা।
তবে ইনসাফ ও সম্মানজনক সমঝোতার শর্তে তারা দেশ ও ইসলামের স্বার্থে জোটের সাথে একযোগে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেছেন। বৈঠকের অন্য একটি অংশে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন খেলাফত মজলিস সদস্যরা। তারা অভিযোগ করেন যে সেনাবাহিনী মাঠে থাকলেও স্বরাষ্ট্র প্রশাসন কার্যকর কোনো কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারছে না।
৫ আগস্টের পর লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার এবং অপরাধীদের ওপর নজরদারি বাড়ানোর ওপর জোর দেন তারা। একই সাথে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রস্তুত করা এবং নির্বাচন কমিশনকে কঠোরভাবে আচরণবিধি নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানানো হয়। দলের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদের সভাপতিত্বে এবং ড. আহমদ আবদুল কাদেরের পরিচালনায় এই জরুরি অধিবেশনে সারাদেশের শুরা সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন