বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

নির্বাচনে ১৭৯ আসনে লড়বে জামায়াত

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ১৫, ২০২৬, ০৯:১৯ পিএম

নির্বাচনে ১৭৯ আসনে লড়বে জামায়াত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গঠিত ১১ দলীয় জোটের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত আসন সমঝোতার ঘোষণা অবশেষে সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার ১৫ জানুয়ারি রাতে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এই নির্বাচনী সমঝোতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। 

ঘোষণা অনুযায়ী জোটের প্রধান শক্তি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এককভাবে ১৭৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। জোটের শরিকদের মাঝে আসন ভাগাভাগি নিয়ে গত কয়েকদিনের টানাপোড়েন শেষে এই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

এর আগে নির্বাচনী এই জোটের আসন ভাগাভাগি ও প্রার্থী তালিকা নিয়ে দিনভর রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত একটানা চলা এই বৈঠকে জামায়াতসহ ১০টি শরিক দলের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। 

তবে আগের দিনের মতো এই বৈঠকেও চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। মূলত ইসলামী আন্দোলনের সাথে আসন সংখ্যা নিয়ে মতভেদ থাকায় তারা জোটের মূল ধারার আলোচনায় শেষ মুহূর্তে অনুপস্থিত ছিলেন যা রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।মগবাজারের ওই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক এবং খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের। এ ছাড়াও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং খেলাফত আন্দোলনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। 

বৈঠকে প্রতিটি দলের সাংগঠনিক শক্তির ভিত্তিতে আসনগুলো বণ্টন করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত ১৭৯টি আসন জামায়াতের জন্য বরাদ্দ রেখে বাকি ১২১টি আসন অন্য শরিকদের মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে।সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে যে ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’ জোটের অধীনে একটি অভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে তারা নির্বাচনে অংশ নেবেন। জামায়াতের ১৭৯টি আসন বাদে এনসিপিকে ৪৭টি, খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে তাদের দাবিকৃত উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসনে ছাড় দেওয়া হয়েছে। 

এ সময় এলডিপি ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) প্রতিনিধিরাও মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। জোটের নেতারা দাবি করেছেন এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নির্বাচনী ময়দানে শক্ত চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। তবে ইসলামী আন্দোলন শেষ পর্যন্ত এই সমঝোতায় না আসায় তাদের জন্য বরাদ্দ রাখা আসনগুলোর ভবিষ্যৎ কী হবে তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি।