জানুয়ারি ৩০, ২০২৬, ০৫:৩১ পিএম
নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এবং এনসিপির কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ নির্বাচনি প্রচারণায় বাধা ও সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। শুক্রবার বিকেলে নোয়াখালীর একটি কনভেনশন হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘোষণা করেন যে, আগামী দুই ঘণ্টার মধ্যে চিহ্নিত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করা না হলে তিনি নির্বাচনের মাঠ ছেড়ে দেবেন।
হান্নান মাসউদ অভিযোগ করেন যে, হাতিয়ার রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য পরিকল্পিতভাবে তার সমর্থকদের ওপর অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা হামলা চালাচ্ছে, যা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায়।
তিনি প্রশাসনকে আলটিমেটাম দিয়ে বলেন যে, সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করা না হলে থানা ঘেরাওসহ আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।সংবাদ সম্মেলনে হান্নান মাসউদ বিস্তারিত অভিযোগ করে জানান যে, শুক্রবার দুপুরে হাতিয়ার নলচিরা ঘাটে একটি ফেরি উদ্বোধন অনুষ্ঠান চলাকালে একদল চিহ্নিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী তার ৮-১০ জন সমর্থককে পিটিয়ে মারাত্মক আহত করে এবং অনেককে নদীতে ফেলে দেয়।
তিনি দাবি করেন যে, হাতিয়ায় সরকারি তালিকাভুক্ত বেশ কয়েকজন অস্ত্রধারী প্রকাশ্য ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং নির্বাচনি কাজে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। মাসউদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা বারবার প্রশাসনকে এসব সন্ত্রাসীর বিষয়ে জানালেও কোনো কার্যকর প্রতিকার পাচ্ছি না। যদি আমাদের কর্মীদের জীবনের নিরাপত্তা না থাকে, তবে আমরা এই নির্বাচনে থাকব কি-না, তা পুনরায় ভেবে দেখতে হবে।” তিনি অভিযোগ করেন যে, একটি পক্ষ প্রশাসনকে প্রভাবিত করে নির্বাচনি মাঠ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চায়।
এর আগে দুপুরে হাতিয়ার নলচিরা ঘাটে ফেরিঘাট উদ্বোধন অনুষ্ঠানের সময় হান্নান মাসউদের সমর্থকদের সঙ্গে একদল যুবকের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, একপক্ষ অন্যপক্ষকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করছে এবং উত্তেজনা বিরাজ করছে। হাতিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) প্রতীক পাল জানিয়েছেন যে, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে হান্নান মাসউদের গ্রেপ্তারের আলটিমেটাম নিয়ে পুলিশ এখনই কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করেনি।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানিয়েছেন যে, তিনি বর্তমানে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিবের একটি অনুষ্ঠানে পেশাগত দায়িত্বে আছেন। তবে নির্বাচনি সহিংসতার বিষয়টি তারা গুরুত্ব সহকারে দেখছেন এবং লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় এমন সংঘর্ষের ঘটনায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে হান্নান মাসউদের মতো একজন কেন্দ্রীয় নেতার নির্বাচনি মাঠ ছেড়ে দেওয়ার হুমকি জাতীয় রাজনীতিতেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন