ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম
ভারতের কলকাতায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সুদূর প্রবাস থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে ছাত্র ও সাধারণ মানুষের মৃত্যুর ঐতিহাসিক দায়ভার নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। সোমবার বিজেপিঘনিষ্ঠ সাংস্কৃতিক মঞ্চ ‘খোলা হাওয়া’ আয়োজিত এক বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে তিনি এই স্বীকারোক্তি দেন।
প্রায় আধা ঘণ্টার দীর্ঘ বক্তৃতায় জয় স্পষ্টভাবে জানান যে জুলাইয়ের আন্দোলনে যত নিরপরাধ ছাত্র এবং সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে তার সম্পূর্ণ দায় তিনি নিচ্ছেন। এর আগে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি সরকারের ‘ভুল’ স্বীকার করলেও সরাসরি মৃত্যুর দায়ভার এভাবে নিজের কাঁধে তুলে নেননি।
সজীব ওয়াজেদ জয় তার বক্তৃতায় উল্লেখ করেন যে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের দাবি অত্যন্ত ন্যায্য ছিল। তার দাবি অনুযায়ী সরকার আগেই কোটা বাতিল করেছিল কিন্তু আদালতের আইনি মারপ্যাঁচে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে যা সরকারের একটি বড় ব্যর্থতা ছিল।
তবে ছাত্রদের মৃত্যুর দায় নিলেও আন্দোলনের নেপথ্যে গভীর ষড়যন্ত্র ছিল বলে তিনি তার অবস্থানে অনড় থাকেন। জয়ের মতে সরকার বা পুলিশ স্বেচ্ছায় সহিংসতা শুরু করেনি বরং আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে কট্টরপন্থি ও জঙ্গিরাই থানায় হামলা এবং অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে পরিস্থিতিকে রক্তাক্ত করে তুলেছিল। তিনি দাবি করেন ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ডগুলোই তার মায়ের নির্দোষ থাকার প্রমাণ।আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন নিয়েও কড়া সমালোচনা করেছেন জয়।
আওয়ামী লীগকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বাইরে রেখে আয়োজিত এই ভোটকে তিনি ‘একতরফা’ এবং ‘সাজানো নাটক’ হিসেবে অভিহিত করেন। তার মতে এটি এখন বিএনপি এবং জামায়াতের মধ্যে এক দ্বিমুখী লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে যেখানে অন্য প্রগতিশীল দলগুলো কোণঠাসা। জয় আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে জামায়াত নেপথ্য থেকে কলকাঠি নাড়লে তা ভারতের নিরাপত্তার জন্যও উদ্বেগের কারণ হবে। একই সঙ্গে ৫ থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে নিহত আওয়ামী লীগ কর্মী ও পুলিশ সদস্যদের মৃত্যুর দায় বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার এড়াতে পারে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন