রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

এবার জামায়াতের সঙ্গ ছাড়ার কারণ জানালেন চরমোনাই পীর

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬, ০৯:৩৮ পিএম

এবার জামায়াতের সঙ্গ ছাড়ার কারণ জানালেন চরমোনাই পীর

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের মিত্র জামায়াতে ইসলামীর সাথে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের টানাপোড়েন এখন তুঙ্গে। বুধবার বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম স্পষ্ট ভাষায় জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে মূলত জামায়াতের একতরফা ও অসৎ আচরণের কারণেই তারা ১১ দলীয় নির্বাচনি জোট থেকে বেরিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছেন।

এখানে মূল বিষয়টি হলো চরমোনাই পীরের মতে শুরুতে তাদের মধ্যে কোনো জোট হয়নি বরং একটি ৮ দলীয় সমঝোতা হয়েছিল। এই সমঝোতার মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশের মানুষের কল্যাণ এবং ইসলামের পক্ষে একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করা যেখানে কোনো একক নেতৃত্ব থাকবে না এবং সব সিদ্ধান্ত হবে পরামর্শের ভিত্তিতে।

 কিন্তু জামায়াতে ইসলামী পরবর্তীতে এই সমঝোতাকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জোটের রূপ দেয় এবং অন্যদের সাথে আলোচনা ছাড়াই নতুন নতুন দলকে অন্তর্ভুক্ত করতে শুরু করে। বিশেষ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি ও এবি পার্টির মতো দলগুলোকে জোটে নেওয়ার ক্ষেত্রে চরমোনাই পীরের দলের সাথে কোনো পূর্ব আলোচনা করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

রেজাউল করীম আরও অভিযোগ করেন যে জামায়াত নেতারা গোপনে বিদেশি দূতাবাসগুলোর সাথে বৈঠক করছেন এবং সেখানে ইসলামী আন্দোলনকে উগ্রবাদী হিসেবে উপস্থাপন করছেন। তিনি বলেন যে দেশ গড়ার বড় লক্ষ্য নিয়ে তারা একত্র হয়েছিলেন কিন্তু জামায়াতের আচরণে দেখা গেছে সেখানে ইসলামের স্বার্থ বা পারস্পরিক সৌহার্দ্য কোনোটাই নেই। যেখানে সততা ও ইনসাফ নেই সেখানে থেকে বেরিয়ে আসাই জাতির কল্যাণের জন্য শ্রেয় বলে তিনি মনে করেন। তার মতে জামায়াতের এমন রাজনৈতিক অবস্থান দেশের মানুষের সাথে এক ধরণের ধোঁকাবাজি।

সংবাদ সম্মেলনে চরমোনাই পীর আরও বলেন যে তারা চেয়েছিলেন ইসলামের পক্ষে একটি একক ভোট বাক্স দিতে যাতে আলেম ওলামাদের ঐক্য বজায় থাকে। কিন্তু ২৮ ডিসেম্বর জামায়াত যখন তড়িঘড়ি করে অন্যান্য দলকে জোটে অন্তর্ভুক্ত করার খবর জানায় তখন থেকেই ফাটল স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি জানান যে সমঝোতার টেবিলে থাকা আট দলের বাইরে অন্য দলের চেহারাও তারা কখনও দেখেননি অথচ জামায়াত তাদের সাথে নিয়ে নিজেদের মতো করে নির্বাচনি ছক সাজিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জোটের সাথে থাকা মানে জাতির সাথে প্রতারণা করা বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সবশেষে ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন যে তারা এখন এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং তাদের ইশতেহারে জনপ্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করা এখন সময়ের দাবি ছিল কারণ যেখানে নিজেদের মধ্যে ন্যূনতম সম্মানবোধ নেই সেখানে কোনো বড় লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ফলে দেশের ইসলামী ধারার রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি হলো যা আগামী নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।