ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬, ১০:১৩ এএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসন থেকে বড় ব্যবধানে বিজয়ী হয়ে ইনসাফ কায়েমের এক নতুন বার্তা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। শুক্রবার বিকেলে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার নির্বাচনি লড়াইকে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের লড়াই হিসেবে অভিহিত করেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ স্পষ্ট করে বলেন যে তার রাজনীতি হবে ইনসাফ বা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য যেখানে তার শত্রুরাও কখনো কোনো বেইনসাফির শিকার হবে না।বিজয় পরবর্তী এই মতবিনিময় সভায় হাসনাত আবদুল্লাহ জানান যে রাষ্ট্রযন্ত্র বা সিস্টেমকে এমনভাবে ঢেলে সাজানো হবে যেখানে কোনো ব্যক্তির প্রতি অন্যায় করার সুযোগ থাকবে না।
তিনি বলেন আমরা এমন একটি ইনসাফপূর্ণ সমাজ গড়তে চাই যেখানে আমার চিরশত্রুর সঙ্গেও যেন কোনো বেইনসাফি না হয়। ভেঙে পড়া রাষ্ট্র কাঠামো পুনর্গঠন এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই হবে তার ও তার দল এনসিপির প্রধান লক্ষ্য।
দেবিদ্বারের সাধারণ মানুষ তার ওপর যে আস্থা রেখেছে তার প্রতিদান দিতে তিনি আমৃত্যু কাজ করে যাবেন বলে অঙ্গীকার করেন।ফ্যাসিবাদের চূড়ান্ত বিলুপ্তিকে নিজের রাজনীতির মূল দর্শন উল্লেখ করে এই ছাত্র-জনতা অভ্যুত্থানের অন্যতম রূপকার বলেন যে সরকারি অফিসে দুর্নীতি ও ঘুস বন্ধে তিনি জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করবেন। তিনি চান দেবিদ্বার হবে একটি মডেল এলাকা যেখানে কোনো ত্রাসের রাজত্ব থাকবে না। তিনি তার সমর্থকদের শান্ত থাকার এবং কোনো ধরনের বিজয় মিছিল বা উসকানিমূলক আচরণ না করার কঠোর নির্দেশ দেন। হাসনাতের মতে জনগণের আস্থাই ছিল তার প্রধান শক্তি যার ফলে তিনি সব প্রতিকূলতা মাড়িয়ে বিজয়ী হতে পেরেছেন।
উল্লেখ্য যে নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী হাসনাত আবদুল্লাহ শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৫৮৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের মো. আ. জসিম উদ্দিন পেয়েছেন ৪৯ হাজার ৮৮৫ ভোট। ১ লাখ ১৬ হাজারেরও বেশি ভোটের এই বিশাল ব্যবধানে জয়লাভের পর হাসনাত আবদুল্লাহকে ঘিরে কুমিল্লার রাজনীতিতে এক নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। ১১ দলীয় জোটের সমর্থনপুষ্ট এই নেতার জয়কে অনেকেই নতুন প্রজন্মের রাজনীতির বিজয় হিসেবে দেখছেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন