ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬, ০৯:৫৬ এএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা, হামলা এবং নির্বাচনী কারচুপির প্রতিবাদে আজ রাজপথে নামছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোট। সোমবার বিকেলে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে এই বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও নারী নির্যাতনের মতো ঘটনার প্রতিবাদ জানাতেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে বলে জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
রোববার বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টায় এই বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এছাড়াও ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের শীর্ষ নেতারা সমাবেশে বক্তব্য দেবেন।
জোটের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, নির্বাচনের দিন ও পরবর্তী সময়ে তাদের প্রার্থীদের এজেন্টদের বের করে দেওয়া এবং পরিকল্পিতভাবে ফলাফল পরিবর্তনের চেষ্টা করা হয়েছে। বিশেষ করে যেসব আসনে জামায়াত জোটের প্রার্থীরা শক্ত অবস্থানে ছিলেন, সেখানে অনিয়মের মাত্রা বেশি ছিল বলে দাবি করা হচ্ছে।উল্লেখ্য, সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯৭টির ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।
এর মধ্যে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ৭৭টি আসনে বিজয়ী হয়েছে। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী একাই জিতেছে ৬৮টি আসনে, যা দলটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব। জোটের অন্য শরিকদের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি এবং খেলাফত মজলিস ১টি আসনে জয়লাভ করেছে। তবে জোটের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সুষ্ঠু ভোট হলে তাদের আসনের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতো।
বিক্ষোভ সমাবেশের আগে থেকেই রাজধানীর পল্টন ও বায়তুল মোকাররম এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ১১ দলীয় জোট জানিয়েছে, তারা প্রায় ৩০টি আসনে ভোটের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে আইনি লড়াইয়ে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আজকের এই বিক্ষোভ সমাবেশের মাধ্যমে তারা সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চায় যাতে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা বন্ধ হয় এবং অনিয়ম হওয়া আসনগুলোতে পুনরায় তদন্ত নিশ্চিত করা হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের পর এটিই বিরোধী জোটের প্রথম বড় ধরনের শক্তি প্রদর্শন হতে যাচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন