বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় বিএনপির তিন সিনিয়র নেতা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬, ১০:১৭ এএম

রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় বিএনপির তিন সিনিয়র নেতা

আলোচনায় তিন শীর্ষ নেতা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল বিজয়ের পর বিএনপি সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আজ সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ এবং বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভার শপথের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। তবে এই মুহূর্তে রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বেশি আলোচনা ও কৌতূহল হচ্ছে বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন তা নিয়ে। 

বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগ এবং বিএনপির নীতিনির্ধারক মহলের প্রস্তুতির প্রেক্ষাপটে এই পদটি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। দলীয় সূত্রগুলো জানাচ্ছে, বিএনপির অন্তত তিনজন সিনিয়র নেতার নাম এই পদের জন্য সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি পদের দৌড়ে আলোচনায় থাকা নেতাদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম বেশ গুরুত্বের সাথে উচ্চারিত হচ্ছে। ৭৯ বছর বয়সী এই প্রবীণ রাজনীতিবীদ কুমিল্লা-১ আসন থেকে এবারও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। 

জিয়াউর রহমানের সময় থেকে দলের বিশ্বস্ত ও অনুগত কর্মী হিসেবে কাজ করে আসা খন্দকার মোশাররফ দলের প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে শক্ত অবস্থানে ছিলেন। শত প্রতিকূলতা ও কারাবরণ সত্ত্বেও তিনি দল ত্যাগ করেননি কিংবা নেতৃত্ব নিয়ে কোনো বিতর্ক সৃষ্টি হতে দেননি। তার এই দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং দলের প্রতি প্রশ্নাতীত আনুগত্য তাকে রাষ্ট্রপতির পদের জন্য একজন শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রবীণ এই নেতাকে অভিভাবকের আসনে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

অন্যদিকে, দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নিয়েও রাষ্ট্রপতির পদের জন্য ব্যাপক গুঞ্জন রয়েছে। গত দেড় দশকে সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক দমন-পীড়নের শিকার হওয়া এই নেতার স্বচ্ছ ভাবমূর্তি দেশের রাজনীতিতে বিশেষভাবে প্রশংসিত। ওয়ান-ইলেভেনের সংকটময় সময় থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিল অনন্য। যদিও মির্জা ফখরুল নিজে অত্যন্ত সাদাসিদে জীবনযাপনে অভ্যস্ত এবং পদ-পদবির প্রতি তার বিশেষ মোহ নেই বলেই পরিচিত, তবে দলের একটি বড় অংশ তাকেই রাষ্ট্রের শীর্ষ পদে দেখতে চায়।

 তিনি নিজেও এবারই তার জীবনের শেষ নির্বাচন বলে ঘোষণা করেছেন, যা তাকে সক্রিয় রাজনীতির চেয়ে রাষ্ট্রপতির মতো আলঙ্কারিক ও সম্মানজনক পদে আসীন করার সম্ভাবনাকে জোরালো করছে।রাষ্ট্রপতি পদের আলোচনায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক প্রভাবশালী সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নামটিও জোরালোভাবে উঠে এসেছে। দক্ষ সংগঠক এবং প্রাজ্ঞ বক্তা হিসেবে পরিচিত এই নেতা এবার বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। দলের সংকটকালে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র বা ড্রাফট তৈরিতে তার পারদর্শিতা প্রশ্নাতীত। 

তাকে রাষ্ট্রপতি করা না হলেও সংসদের স্পিকার কিংবা প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা করা হতে পারে বলে দলের ভেতর আলোচনা রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি পদের জন্য বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান যার ওপর আস্থা রাখবেন, তিনিই এই পদে মনোনীত হবেন। বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন এবং এককভাবে ২০৯টি আসন পাওয়া বিএনপির প্রার্থীর পক্ষেই বিজয় নিশ্চিত।বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ইতিমধ্যে তার সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন। 

গত বছর একটি আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেই পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন সংসদ গঠিত হওয়ার পর তার বিদায় এখন কেবল আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৬০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে সেই শূন্যপদ পূরণের নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিধান রয়েছে। মন্ত্রিসভা গঠনের পরপরই রাষ্ট্রপতি পদের মনোনয়ন চূড়ান্ত করার মধ্য দিয়ে বিএনপি তাদের পূর্ণাঙ্গ শাসনকাঠামোর রূপরেখা স্পষ্ট করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।