শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

শপথ নেওয়ার বিষয়ে যা জানাল এনসিপি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬, ১২:০৮ পিএম

শপথ নেওয়ার বিষয়ে যা জানাল এনসিপি

সিদ্ধান্তহীনতায় এনসিপি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ছয় সংসদ সদস্যের শপথ গ্রহণ নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে শপথ গ্রহণের নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হলেও তারা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত শপথ নেবেন কি না, তা নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি। মূলত সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে আলাদা শপথ গ্রহণের বিষয়ে প্রধান রাজনৈতিক শক্তি বিএনপির আপত্তির পরেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। 

বিএনপি ইতিমধ্যে পরিষ্কার করে জানিয়েছে যে, তাদের নির্বাচিত সদস্যরা কেবল সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন, তবে সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে তারা এখনই কোনো শপথ গ্রহণ করবেন না।

সকালে সংসদ সচিবালয়ের শপথ কক্ষে উপস্থিত হওয়ার পর এনসিপির সংসদ সদস্যরা অভ্যন্তরীণ আলোচনায় বসেন। দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, বিএনপির সংসদ সদস্যরা যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেন, তবে এনসিপির ছয় সংসদ সদস্যও শপথ গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে পারেন। 

বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে গভীর পর্যবেক্ষণ চলছে। এনসিপির নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে নির্বাচিত সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন জানিয়েছেন, বিএনপি সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ার কারণে তারাও বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবছেন। তবে এটি তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়, বরং পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে তারা পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন।রাজনৈতিক এই জটিলতার মূলে রয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তাবিত সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ প্রক্রিয়া। 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ইতিমধ্যে দাবি করেছেন যে, বর্তমান সংবিধানে এ ধরনের কোনো পরিষদের শপথ নেওয়ার বিধান নেই এবং এটি অসাংবিধানিক। এই একই যুক্তিতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটও তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে শুরু করেছে। এনসিপি এই জোটের একটি প্রধান শরিক দল। এনসিপির মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যরা কিছুক্ষণ পরেই একটি বৈঠকে বসবেন এবং সেখানে সম্মিলিতভাবে শপথ নেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত ফয়সালা হবে।

এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মিডিয়া সেক্রেটারি ইয়াসির আরাফাত নিশ্চিত করেছেন যে, শপথ বিষয়ে এখনো কোনো একক সিদ্ধান্ত হয়নি। তারা জোটের অন্যান্য শরিকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিতে চান। বিশেষ করে সংবিধান সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বিএনপি এবং জামায়াতের অবস্থানের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই এনসিপি তাদের সংসদীয় যাত্রা শুরু করতে চায়। আজ দুপুর ১২টায় এনসিপির সদস্যদের শপথের সময় নির্ধারিত থাকলেও জোটের বৈঠকের সিদ্ধান্তের ওপরই সবকিছু নির্ভর করছে।

উল্লেখ্য যে, গতকাল সন্ধ্যায় এনসিপি জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করেছিল এবং তখন দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে তারা মঙ্গলবার শপথ গ্রহণ করবে। তবে আজ সকালে সংসদ ভবনে বিএনপির অবস্থানের কারণে রাজনৈতিক দৃশ্যপট বদলে যায়। দেশের নতুন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় সংবিধান সংস্কারের এই আইনি বিতর্ক এখন নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এনসিপির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি এই জোটবদ্ধ রাজনীতির ভবিষ্যৎ মেরুকরণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।