বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

বিএনপি না নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিল জামায়াত

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬, ১২:৪৪ পিএম

বিএনপি না নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিল জামায়াত

সংসদ ভবনে শপথ অনুষ্ঠান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থীরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ নিয়ে নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। বিএনপি থেকে নির্বাচিত ২০৯ জন সংসদ সদস্য সংসদীয় শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়া থেকে বিরত ছিলেন। 

তবে জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) ১১ দলীয় জোটের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা উভয় পদেই শপথ গ্রহণ করেছেন। মঙ্গলবার সকালে সংসদ ভবনে এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমান সংবিধানে সংবিধান সংস্কার পরিষদ বলে কোনো কাঠামোর অস্তিত্ব নেই। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমকে জানান, সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে বিভিন্ন পদের শপথের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও সেখানে এই পরিষদের কোনো উল্লেখ নেই।

 একইসঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের এ ধরনের শপথ পাঠ করানোর আইনগত এখতিয়ার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে দলটি। বিএনপি মনে করছে, আইনি ভিত্তিহীন কোনো প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া রাজনৈতিকভাবে সঠিক হবে না। তবে সংসদে অধিবেশন শুরু হওয়ার পর এই বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের মিত্র জোটের প্রার্থীরা জুলাই জাতীয় সনদ বা সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী গঠিত এই পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে কোনো দ্বিধা করেননি। 

গণভোটের ফলাফলের ভিত্তিতে গঠিত এই পরিষদকে তারা আইনি প্রক্রিয়া হিসেবেই বিবেচনা করছেন। তাদের মতে, রাষ্ট্রীয় সংস্কারের অংশ হিসেবে এই শপথ গ্রহণ জরুরি ছিল। এর ফলে একই সংসদে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মধ্যে শপথ গ্রহণ নিয়ে দুটি ভিন্ন ধারা লক্ষ্য করা গেল।বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপির এই অবস্থান অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সংস্কার কার্যক্রমের শুরুতেই একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করল। দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল এই প্রক্রিয়ার বাইরে থাকায় সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগটি রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়তে পারে। 

বিশেষ করে যেখানে সংস্কারের জন্য সর্বজনীন ঐকমত্য প্রয়োজন, সেখানে বড় একটি অংশের অনুপস্থিতি প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। সংসদ সচিবালয় দুই ধরনের শপথের প্রস্তুতি রাখলেও বিএনপির অনড় অবস্থানের কারণে লক্ষ্যমাত্রা পূর্ণ হয়নি। আগামী দিনে সংসদীয় অধিবেশনে এই ইস্যুটি কেন্দ্র করে সরকারি ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মূলত আইনি বৈধতা এবং রাজনৈতিক কৌশলের এই টানাপোড়েন বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করল।