বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান বর্জন করল এনসিপি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬, ০৩:১৪ পিএম

নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান বর্জন করল এনসিপি

শপথ বর্জনের ঘোষণা এনসিপির

নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের পরপরই নাটকীয় সিদ্ধান্ত নিল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। মঙ্গলবার বিকেলে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান বর্জন করার ঘোষণা দিয়েছে দলটি। এনসিপি‍‍`র সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসন থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আখতার হোসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন। 

মূলত বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ায় তার প্রতিবাদে এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে এনসিপি।আখতার হোসেন তার পোস্টে উল্লেখ করেন, গণভোটের রায় অনুযায়ী গঠিত সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে বিএনপি জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী কাজ করেছে। 

জনগণের রায়কে সম্মান না জানানো এবং সংস্কার প্রক্রিয়া থেকে দূরে থাকার প্রতিবাদ হিসেবেই এনসিপি বিকেলে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত মন্ত্রিপরিষদের শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 

এর আগে দুপুরে এনসিপির নির্বাচিত ছয় নেতা সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দুটি পৃথক শপথ গ্রহণ সম্পন্ন করেন।উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সকালে বিএনপির নির্বাচিত ২০৯ জন সংসদ সদস্য সংসদীয় শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ বর্জন করেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বর্তমান সংবিধানে এই পরিষদের কোনো আইনি ভিত্তি নেই এবং তৃতীয় তফসিলে এ সংক্রান্ত কোনো শপথের বিধান রাখা হয়নি। 

বিএনপি মনে করে, আগে এই প্রক্রিয়াকে সাংবিধানিকভাবে বৈধ করতে হবে, তারপরই শপথের প্রশ্ন আসবে। তবে এনসিপি এবং জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরা এই যুক্তি মানতে নারাজ। তারা মনে করছেন, এটি রাষ্ট্র সংস্কারের পথে একটি বড় বাধা।রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নতুন সরকার গঠনের প্রথম দিনেই শরিক ও সহযোগী শক্তিগুলোর মধ্যে এমন দূরত্ব ভবিষ্যতে সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। একদিকে বিএনপি আইনি কাঠামোর দোহাই দিচ্ছে, অন্যদিকে এনসিপি একে গণভোটের রায় অবমাননা হিসেবে দেখছে। 

এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে আজ বিকেলের শপথ অনুষ্ঠানের জৌলুস কিছুটা ম্লান হতে পারে। জামায়াতে ইসলামী ইতোমধ্যে উভয় শপথ নিলেও এনসিপির এই বর্জন কর্মসূচি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে মেরুকরণের আভাস দিচ্ছে।