ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬, ০৩:৩৫ পিএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শেষে এক গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় দলের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে দলীয় আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এই সভাটি সম্পন্ন হয়। সভায় জামায়াতের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ছাড়াও তাদের নির্বাচনি মিত্র ১১ দলীয় ঐক্যের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) অন্যান্য দলের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই সভাকে নতুন সংসদের ভেতরে জামায়াত ও তার মিত্রদের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন জামায়াতের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান।
জামায়াতের সদস্যদের শপথের পর পর্যায়ক্রমে এনসিপির ৬ জন সংসদ সদস্যও শপথ গ্রহণ করেন। উল্লেখ্য যে, জামায়াত ও এনসিপির প্রার্থীরা সংসদ সদস্য পদের শপথের পাশাপাশি `জুলাই জাতীয় সনদ` অনুযায়ী গঠিত সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও পৃথকভাবে শপথ নিয়েছেন।
একই দিনে বিএনপি শপথ নিলেও তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ বর্জন করেছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে মেরুকরণ শুরু হয়েছে।জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের অন্যতম শরিক এনসিপির যে ছয়জন নেতা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন এবং সভায় যোগ দিয়েছেন তারা হলেন—নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন, হাসনাত আবদুল্লাহ, আবদুল হান্নান মাসউদ, আবদুল্লাহ আল আমিন ও আতিকুর রহমান মোজাহিদ।
সভায় সংসদীয় কার্যক্রমে সমন্বয় বজায় রাখা এবং রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়ে ১১ দলীয় জোটের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে নবনির্বাচিত সদস্যদের জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে এবং সংসদের ভেতরে ও বাইরে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।সভার মূল আলোচ্য বিষয় ছিল আগামীর সংসদীয় কৌশল এবং সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণ। বিএনপির সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ার সিদ্ধান্তের বিপরীতে জামায়াত ও এনসিপির এই কঠোর অবস্থান এবং জোটবদ্ধ সভাটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
বিকেলে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের আগে এই সভা থেকে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করল জামায়াত জোট। বিশেষ করে যেখানে এনসিপি ইতোমধ্যে মন্ত্রিসভার শপথ বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে, সেখানে জামায়াতের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল বিরাজ করছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন