বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬,

জামায়াতের ইফতারে প্রধানমন্ত্রীকে সপরিবারে দাওয়াত

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬, ০১:০৫ পিএম

জামায়াতের ইফতারে প্রধানমন্ত্রীকে সপরিবারে দাওয়াত

ইফতারে আমন্ত্রিত প্রধানমন্ত্রী

আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সপরিবারে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বুধবার সকালে সচিবালয়ে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই আনুষ্ঠানিক দাওয়াতপত্র পৌঁছে দেন। 

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের পর দুই দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং ইফতারের আমন্ত্রণ রাজনৈতিক মহলে ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। 

আগামী শনিবার বিকেল ৫টায় রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এই ইফতার অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। 

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ব্যক্তিগতভাবে টেলিফোনে প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর স্ত্রী এবং সন্তানসহ সপরিবারে আসার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন। মূলত দীর্ঘ দেড় দশকের রাজনৈতিক বৈরিতা ও দমন-পীড়নের পর দেশে একটি সুস্থ ও ভারসাম্যপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, "আমরা চাই রাজনীতিতে যেন কোনো ‍‍`ব্যাড প্র্যাকটিস‍‍` বা নোংরা সংস্কৃতি না থাকে।

 তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, সংসদই হওয়া উচিত সকল রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। বিগত সরকারের আমলে যে প্রতিহিংসার রাজনীতি চর্চা করা হয়েছিল, বর্তমান গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে তার পুনরাবৃত্তি রোধে সকল পক্ষকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি। ইফতারের এই আয়োজন দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সংলাপে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে জামায়াত নেতারা আশা প্রকাশ করছেন।

বর্তমান সরকারের আমলে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এই ধরনের সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান কেন্দ্রিক সৌজন্য সাক্ষাৎকে গণতন্ত্রের জন্য শুভ লক্ষণ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে জেন-জি প্রজন্মের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি বৈষম্যহীন ও সৌহার্দ্যপূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে বড় দলগুলোর মধ্যে এমন সংহতি জরুরি। ২৮ ফেব্রুয়ারির এই ইফতার মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও মন্ত্রিসভার সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা এবং বিশিষ্ট নাগরিকরা অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।