মার্চ ২৬, ২০২৬, ০৯:৪১ এএম
সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার সকালে স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন যে স্বাধীনতার প্রকৃত সুফল দেশের সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন যে স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পার হলেও এর সুফল এতদিন কেউ যথাযথভাবে ভোগ করতে পারেনি। তবে বর্তমান সময়ে আগামীর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে দেশের আপামর জনতা নতুন করে শপথ নিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে বিরোধীদলের শীর্ষ নেতারা স্মৃতিসৌধের বেদিতে শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জামায়াত আমির বলেন যে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। তিনি মনে করেন একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার জন্য রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে এগিয়ে আসা প্রয়োজন। জাতীয় স্বার্থে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।একই সময়ে সেখানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন যে যারা মহান স্বাধীনতার পক্ষে ছিলেন এবং যেসব বীর শহীদ ও বীরাঙ্গনাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে এই দেশ অর্জিত হয়েছে তাদের প্রতি জাতি চিরকাল কৃতজ্ঞ। তবে স্বাধীনতার সেই কাঙ্ক্ষিত আকাঙ্ক্ষা আজও পুরোপুরি পূরণ হয়নি বলেই দেশের তরুণ প্রজন্মকে আবারও রাজপথে রক্ত দিতে হয়েছে। জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট টেনে তিনি বলেন যে ভবিষ্যতে যাতে এ দেশে আর কাউকে অধিকার আদায়ের জন্য রক্ত দিতে না হয় সেই লক্ষ্যেই তারা কাজ করছেন।
নাহিদ ইসলাম আরও উল্লেখ করেন যে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের মূল আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে একটি সাম্য ও মানবিক মর্যাদার বাংলাদেশ গড়া এখন সময়ের দাবি। বিরোধীদলীয় নেতারা মনে করেন বীর শহীদদের আত্মত্যাগ তখনই সার্থক হবে যখন দেশের প্রতিটি নাগরিক তাদের গণতান্ত্রিক ও নাগরিক অধিকার ফিরে পাবে। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে নেতারা স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে কিছুক্ষণ অবস্থান করেন এবং স্বাধীনতার চেতনা সমুন্নত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। বীর শহীদদের স্বপ্নের প্রতিফলন ঘটাতে হলে প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে দেশ গঠনের কাজে মনোনিবেশ করার ওপর তারা জোর দেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন