মার্চ ২৯, ২০২৬, ০৯:৩৮ পিএম
জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এনসিপির সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ দাবি করেছেন যে, জেনারেশন জেড বা জেন জি প্রজন্মের প্রতিনিধিরা বাহাত্তরের সংবিধান আর চায় না। নিজেকে জেন জি প্রজন্মের অংশ এবং জুলাই আন্দোলনের অগ্রভাগের সৈনিক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই প্রজন্ম কেন স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পরেও ভোটাধিকার পায়নি, তারা আজ সেই জবাব চায়।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, পূর্বপুরুষরা রক্ত দিয়ে একটি নিরাপদ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখলেও বর্তমান প্রজন্ম সেই নিরাপত্তা পেয়েছে কি না। রোববার সংসদের অধিবেশনে হান্নান মাসউদ তার বক্তব্যে তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ আলোকপাত করেন।
বক্তব্যের শুরুতে হান্নান মাসউদ তার নির্বাচনী এলাকা হাতিয়ার নদীভাঙ্গন ও স্থানীয় সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, নির্বাচনের সময় এবং পরবর্তী সময়ে তার গাড়ি বহরে দফায় দফায় হামলা চালানো হয়েছে।
সরকারি দলের মন্ত্রীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সাধারণ মানুষের রক্ত ঝরিয়ে রাজপথ রঞ্জিত করার কারণেই আজ তারা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হতে পেরেছেন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, বিশ্বাসঘাতকতার মূল্য রাষ্ট্র সইবে না এবং খুনিদের পুনর্বাসন করে বিরোধীদের ওপর লেলিয়ে দেওয়ার পরিণাম শুভ হবে না। ১৯৯৪ সালের মাগুরার উপনির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বর্তমান নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।শান্তি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে সোচ্চার হান্নান মাসউদ সংসদে একটি চাঞ্চল্যকর ধর্ষণের ঘটনার বিবরণ দেন।
তিনি দাবি করেন, নির্বাচনে শাপলা কলি প্রতীকে ভোট দেওয়ার অপরাধে একজন নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। ঘটনার ৪২ দিন পার হয়ে গেলেও ডিএনএ প্রতিবেদন না আসা এবং মামলা নিতে তিন দিন দেরি হওয়ায় তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উচিত আইনের তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা না দিয়ে সন্ত্রাসীদের তালিকা তৈরি করে তাদের বিচারের আওতায় আনা। বিশেষ করে বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা যেভাবে হত্যার শিকার হচ্ছেন, তার বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ তার বক্তব্যে সাফ জানিয়ে দেন যে, নতুন প্রজন্মের কাছে বর্তমান সংবিধানের অনেক ধারা অগ্রহণযোগ্য হয়ে পড়েছে। তারা এমন একটি রাষ্ট্র চায় যেখানে ভোটাধিকার ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকবে। একই অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আরও আলোচনায় অংশ নেন বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক, আবদুল আজিজ এবং মোহাম্মদ আব্দুল মালিকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। তারা দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন