এপ্রিল ২, ২০২৬, ০৮:২৯ পিএম
জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রথমবারের মতো বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পেলেন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতা আমির হামজা। বৃহস্পতিবার বিকেলের অধিবেশনে তিনি কুষ্টিয়ার দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যাগুলো নিয়ে সরব হন। তাঁর বক্তব্যে মূলত কুষ্টিয়া জেলার অবকাঠামোগত জরাজীর্ণ দশা এবং স্বাস্থ্য খাতের স্থবিরতার চিত্র ফুটে ওঠে।
প্রথমবারের এই ভাষণে তিনি নিজ নির্বাচনী এলাকার মানুষের দুর্ভোগের কথা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আইনসভায় তুলে ধরেন।বক্তব্যের শুরুতেই আমির হামজা কুষ্টিয়াকে দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার এবং সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে অভিহিত করেন।
তিনি বলেন যে, এই গুরুত্বপূর্ণ জেলাটি বর্তমানে অবকাঠামোগত নানা সংকটে জর্জরিত হয়ে আছে। বিশেষ করে কুষ্টিয়া জেলার বটতলা থেকে কুষ্টিয়া বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত এবং বটতলা থেকে পাটিকাবাড়ির শেষ সীমানা পর্যন্ত প্রায় ২০ থেকে ২২ কিলোমিটার সড়ক এখন অত্যন্ত জরাজীর্ণ।
এই দুটি সড়ক দিয়ে প্রতিদিন লাখো মানুষ যাতায়াত করলেও খানাখন্দ আর সংকীর্ণতার কারণে তাদের ভোগান্তি এখন চরমে পৌঁছেছে। জনস্বার্থ বিবেচনায় তিনি সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর কাছে মোট ৪২ কিলোমিটারের এই সড়ক দুটি দ্রুত চওড়া করার দাবি জানান। সেই সাথে সড়কের মাঝখানে আইল্যান্ড নির্মাণের মাধ্যমে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।কুষ্টিয়ার স্বাস্থ্য খাতের করুণ দশা তুলে ধরতে গিয়ে সংসদ সদস্য আমির হামজা বলেন যে, জেলায় চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নের জন্য ২০১১ সালে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রকল্পটি শুরু হয়েছিল।
অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, ২০২৬ সালে এসেও এই প্রকল্পটি কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে আছে। দীর্ঘ পনেরো বছরেও প্রকল্পটির কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় সাধারণ মানুষ সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তিনি তথ্য দেন যে, হাসপাতালটির জন্য কেনা প্রায় ১০০ কোটি টাকার আধুনিক যন্ত্রপাতি বর্তমানে অযত্নে ও অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। যেখানে ২৩টি বিভাগ পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হওয়ার কথা ছিল, সেখানে বর্তমানে মাত্র দুটি বিভাগ সীমিত পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
আমির হামজা তাঁর বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন যে, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটি যদি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা যায়, তবে কুষ্টিয়াসহ আশেপাশের অন্তত ৫ থেকে ৬টি জেলার প্রায় ১৮ লাখ মানুষের উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হবে। তাই সাধারণ মানুষের এই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে হাসপাতালটি চালুর জন্য তিনি আকুল আবেদন জানান। সংসদ সদস্য হিসেবে প্রথমবার বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি নিজ এলাকার জনগণের মৌলিক অধিকার ও উন্নয়নের দাবিকসমূহ জোরালোভাবে উত্থাপন করেন যা উপস্থিত সদস্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন