বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

মহানবী (সা.)-কে কটূক্তির দায়ে মৃত্যুদণ্ডের আইন পাসের দাবি হানজালার

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১৫, ২০২৬, ১০:৪১ পিএম

মহানবী (সা.)-কে কটূক্তির দায়ে মৃত্যুদণ্ডের আইন পাসের দাবি হানজালার

সংসদে বক্তব্য দিচ্ছেন হানজালা

মহানবী (সা.)-কে কটূক্তির দায়ে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে আইন পাসের জোরালো দাবি জানিয়েছেন মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস নেতা সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা। একইসঙ্গে যারা মহানবী (সা.)-কে শেষ নবী হিসেবে স্বীকার করে না, তাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করার দাবিতেও সরব হয়েছেন তিনি। 

বুধবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই দাবিগুলো উত্থাপন করেন। তাঁর এই বক্তব্য সংসদ অধিবেশনে উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করে।

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে হানজালা বলেন, এ দেশের লাখ লাখ ওলামায়ে কেরাম ও ধর্মপ্রাণ মুসলমান দীর্ঘকাল ধরে এই আইন পাসের প্রতীক্ষায় রয়েছেন। তিনি পবিত্র কোরআনের সুরা আল-আহজাবের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, শেষ নবীকে বিশ্বাস করা ইমানের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। 

তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশে এমন একটি গোষ্ঠী রয়েছে যারা মহানবী (সা.)-কে শেষ নবী হিসেবে স্বীকার করে না অথচ নিজেদের মুসলমান হিসেবে দাবি করে। স্বাধীনতার পর থেকে চলা এই বিতর্কের স্থায়ী অবসান ঘটিয়ে খতমে নবুওয়াত অস্বীকারকারীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে একটি নতুন ইতিহাস রচনার আহ্বান জানান তিনি।সংসদে দেওয়া বক্তব্যে সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা রাসুল (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে বলেন, এ দেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ। সাধারণ মানুষ হয়তো নিয়মিত নামাজ পড়েন না, কিন্তু নবীর অপমানে তাদের কলিজা ছিঁড়ে যায়। 

প্রায়ই দেখা যায় বিভিন্ন মাধ্যমে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি কটূক্তি ও অশ্লীল গালিগালাজ করা হয়। এর প্রতিবাদ করতে গিয়ে রাজপথে অনেক সাধারণ মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে। তিনি মনে করেন, নবীর শানে অবমাননাকারীদের জন্য মৃত্যুদণ্ডের আইন পাস করা হলে এ ধরনের ঘৃণ্য অপরাধ চিরতরে বন্ধ হবে। একইসঙ্গে তিনি শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচারের দাবি জানান এবং ন্যায়ের পক্ষে কথা বলা ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।

বিরোধী দলের সংসদ সদস্য হিসেবে হানজালা আরও বলেন, বিরোধী দল মানেই শুধু অন্ধ বিরোধিতা করা নয়। বর্তমান সরকারের সংসদ অধিবেশনে কালিমা ও বিসমিল্লাহর অবস্থান দেখে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, সরকারি দল কোনো ভালো কাজ করলে বিরোধী দল তার প্রশংসা করতে কুণ্ঠাবোধ করবে না। 

তবে সরকারের কোনো ভুল থাকলে বা জনগণের দাবি আদায়ে রাজপথে নামার প্রয়োজন হলে তাঁরা পিছপা হবেন না। এ দেশের বিশাল একটি ধর্মপ্রাণ জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর হিসেবে সংসদে ইসলামের মর্যাদা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি সরকারের জোরালো হস্তক্ষেপ কামনা করেন। শেষে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, জাতীয় সংসদ থেকেই ধর্মীয় অনুভূতির সুরক্ষায় ঐতিহাসিক এই আইনটি পাস হবে।