শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬,

এনসিপিতে যোগ দেওয়া নিয়ে যা বললেন রুমিন ফারহানা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ১২:৪৯ পিএম

এনসিপিতে যোগ দেওয়া নিয়ে যা বললেন রুমিন ফারহানা

রাজনীতিতে নতুন দল এনসিপিতে (জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল) যোগ দেওয়া নিয়ে চলমান গুঞ্জন ও জল্পনার অবসান ঘটিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। বিএনপির সাবেক এই নেত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, তাঁর দল পরিবর্তনের এই খবরটির কোনো ভিত্তি নেই এবং এটি স্রেফ একটি গুজব। 

শুক্রবার জার্মান গণমাধ্যম ডয়েচে ভেলের (বাংলা) একটি জনপ্রিয় টক শোতে অংশ নিয়ে তিনি নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ কিছু দিন ধরে চলা এই আলোচনার পর তাঁর এই বক্তব্য জনমনে স্বচ্ছতা তৈরি করেছে।

রুমিন ফারহানা টক শোতে আলাপকালে বলেন, এটি একেবারেই একটি ভিত্তিহীন গুঞ্জন এবং গুজব ছাড়া আর কিছুই নয়। এনসিপিতে যোগ দেওয়ার খবরের সাথে ন্যূনতম কোনো সত্যতা নেই বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি জানান, বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর রাজনৈতিক মাঠে তাঁর সক্রিয়তার কারণে স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে। 

সেই ধারাবাহিকতায় এনসিপির পক্ষ থেকেও তাঁকে দলে যোগ দেওয়ার জন্য একাধিকবার প্রস্তাব বা আহ্বান জানানো হয়েছিল, যা অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া।নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে রুমিন ফারহানা আরও বলেন, ওই দলের পক্ষ থেকে তাঁকে বারবার বলা হয়েছে যে তিনি জুলাইয়ের আন্দোলনে রাজপথে সাহসী ভূমিকা রেখেছেন এবং ফ্রন্টলাইনার হিসেবে কাজ করেছেন। এমনকি তাঁর বাসভবন ভাঙচুরের ঘটনাটিও তাঁরা সহমর্মিতার সঙ্গে উল্লেখ করে তাঁকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। 

তবে রুমিন ফারহানা জানান, তিনি তাঁদের এই প্রস্তাব শুনে কেবল হেসেছেন এবং এটি নিয়ে কোনো গুরত্বপূর্ণ আলোচনা বা কথা বাড়াননি। অর্থাৎ প্রস্তাব এলেও তিনি তাতে কোনো সম্মতি প্রদান করেননি।এনসিপিতে যোগ দিলে সংসদে কথা বলার জন্য আরও বেশি সময় বা সুযোগ তৈরি হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে রুমিন ফারহানা বেশ কড়া ও নীতিগত উত্তর দেন। তিনি বলেন, শুধু সংসদে কথা বলার বাড়তি সুযোগের লোভে পড়ে তিনি কোনো জোটে বা দলে যোগ দেবেন না। 

তাঁর মতে, রাজনৈতিক আদর্শ ও চিন্তাভাবনা বিসর্জন দিয়ে কেবল দুই মিনিট সময় পাওয়ার জন্য নতুন কোনো প্লাটফর্মে যাওয়া তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের পরিপন্থী। কথা বলার জন্য বর্তমানে অসংখ্য বিকল্প মাধ্যম আছে এবং তিনি সেসব জায়গায় নিজের কথা বলতে পারেন। ফলে ব্যক্তিগত পরিকল্পনা ও আদর্শই তাঁর কাছে মুখ্য, কোনো সংসদীয় বাড়তি সুবিধা নয়। তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে দল বদলের যাবতীয় জল্পনার অবসান ঘটল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।