মে ৩১, ২০২৬, ০৪:২৭ পিএম
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা এবং জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের বলেছেন, দেশের প্রধান বিরোধীদল হিসেবে আগামীতে জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসবে বলে তারা অত্যন্ত আশাবাদী। রোববার কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত এক ঈদ পুনর্মিলনী ও গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই রাজনৈতিক আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি মনে করেন দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সাধারণ জনগণের ম্যান্ডেট তাদের দলের পক্ষেই স্পষ্ট রয়েছে।
নির্বাচনের ফলাফলের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে ডা. তাহের জামায়াতের একক ও জোটগত আসনের হিসাবও জনসমক্ষে তুলে ধরেন।তিনি বলেন যে বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি আমাদের চেয়ে মাত্র ১০ শতাংশ ভোট বেশি পেয়েছে।
ওই নির্বাচনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী এককভাবে ৬৮টি আসন এবং জোটগতভাবে মোট ৭৭টি আসন লাভ করতে সক্ষম হয়েছে। দেশের সংসদীয় রাজনীতিতে প্রধান বিরোধীদল মানেই হলো আগামীতে যারা সুনির্দিষ্টভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসবে। এই যৌক্তিক কারনেই আমরা দৃঢ়ভাবে আশা করছি যে আগামী দিনে জামায়াতে ইসলামীই এককভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আরোহণ করবে।এর পাশাপাশি নিজের নির্বাচনী এলাকার ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও নতুন বরাদ্দ নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন বিরোধীদলীয় উপনেতা।
তিনি জানান যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে এই এলাকার সামগ্রিক অবহেলিত অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য তিনি নিজস্ব প্রচেষ্টায় ১২০ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ নিয়ে এসেছিলেন। নতুন নির্বাচন অতিবাহিত হওয়ার পর মাত্র তিন মাস সময় পার হয়েছে এবং এরই মধ্যে এলাকার উন্নয়নের জন্য আরও ১০০ কোটি টাকার নতুন বরাদ্দ আনতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে নতুন নির্বাচিত সরকারের সবেমাত্র তিন মাস পূর্ণ হয়েছে এবং যদি জোট অংশীদার বিএনপি পূর্ণ পাঁচ বছর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় টিকে থাকে, তাহলে এই লোকাল উন্নয়ন বরাদ্দ আগামীতে আরও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে।
এলাকার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করাই তাঁর মূল লক্ষ্য বলে তিনি দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেন।চৌদ্দগ্রামের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক অবক্ষয় নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ডা. তাহের অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন যে চৌদ্দগ্রামের প্রধান দুটি মৌলিক সমস্যা হলো উঠতি কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত এবং অবৈধ মাদক ব্যবসা। এই পবিত্র মাটিতে কিশোর গ্যাং ও মাদক ব্যবসায়ীদের আর কোনো ধরনের স্থান দেওয়া হবে না এবং তাদের সংশোধন হওয়ার জন্য আগামী ছয় মাস সময় বেঁধে দেওয়া হলো। এরপরও যদি কেউ এই অন্ধকার পথে লিপ্ত থাকে তবে তাঁর নিজের নেতৃত্বেই এলাকায় কঠোর কিশোর গ্যাং ও মাদকবিরোধী সামাজিক অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন।

-20260530105007.jpg)
দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন