জুন ৩, ২০২৬, ০৯:৫৯ এএম
গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা এবং তাঁকে আইনি প্রক্রিয়ায় ফিরিয়ে আনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক গুঞ্জন ও জল্পনা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এই আসামিকে ফিরিয়ে আনতে অন্তর্বর্তী সরকার ইতিমধ্যে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক নোট ভারবাল পাঠিয়েছে।
তবে ২০১৩ সালের দ্বিপক্ষীয় বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তিতে রাজনৈতিক অপরাধের ছাড় দেওয়ার সুযোগ থাকায় শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়টি এখন গভীর আইনি ও কূটনৈতিক জটিলতায় রূপ নিয়েছে।দুই দেশের দীর্ঘদিনের বহুমাত্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং দক্ষিণ এশিয়ার বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে এই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে।
আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে শেখ হাসিনা খুব শীঘ্রই সম্পূর্ণ নিজস্ব রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে এবং বীরের বেশে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করবেন।
শেষ পর্যন্ত এই জটিল ও বহুমাত্রিক সংকটের সমাধান কেবল আইনি নথিপত্রের ওপর নির্ভর করবে না, বরং ঢাকা ও দিল্লির শীর্ষ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক দূরদর্শিতার ওপরই এর চূড়ান্ত ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।আইন বিশেষজ্ঞ ড. শাহ্দীন মালিক জানিয়েছেন যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ছাড়া অতীতে কোনো আশ্রয়প্রার্থী রাষ্ট্রপ্রধানকে স্বদেশে জোরপূর্বক ফেরত দেওয়ার নজির আন্তর্জাতিক আইনে খুবই বিরল।
বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট করেছেন যে প্রচলিত বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করতে সরকার বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী আইনগত সব ধরনের চেষ্টা অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে অব্যাহত রেখেছে। উল্লেখ্য যে ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আশুলিয়া ও চানখাঁরপুলে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দায়ে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডের চূড়ান্ত আদেশ প্রদান করেন এবং পলাতক থাকায় তিনি ইতিমধ্যে আপিল করার আইনি অধিকারও সম্পূর্ণ হারিয়েছেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন