সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ১২:২১ পিএম
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং রাজনৈতিক নানা ইস্যুকে সামনে রেখে সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে দেশব্যাপী ব্যাপক গণসংযোগ কর্মসূচি পালন করেছে প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি প্রান্তে পরিচালিত এই বিশেষ কার্যক্রমে বৈষম্যহীন, ইনসাফপূর্ণ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দলটির সাথে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সাথে গণভোটের রায় কার্যকর এবং সাত দফা দাবির সমর্থনে জনমত গড়ে তুলতে মাঠে সক্রিয় ছিলেন দলটির সম্ভাব্য প্রার্থীরা। মাসব্যাপী এই সাংগঠনিক তৎপরতা শেষে এবার তৃণমূল ইউনিট থেকে কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত রিপোর্ট সংগ্রহ ও মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের গণসংযোগ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন দলটির আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। ওই দিন বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, অবসরপ্রাপ্ত বিচারক, ব্যবসায়ী এবং কওমি আলেমসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ৬৫০ জন ব্যক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে দলটিতে যোগদান করেন। পরবর্তীতে মহানগর দক্ষিণের প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি বিস্তৃত করা হয়।
একই দিনে তুরাগ দক্ষিণ থানার ৫২ নম্বর ওয়ার্ডে কর্মসূচির সূচনা করেন ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির ও নগর উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। পরবর্তীতে উত্তরের প্রতিটি প্রশাসনিক ইউনিটে একযোগে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
কর্মসূচির সার্বিক প্রভাব মূল্যায়ন করে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, নিয়মিত বার্ষিক পরিকল্পনার আওতায় সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে সাধারণ নাগরিকদের সাথে মতবিনিময় এবং বই বিতরণ করা হয়েছে। এর আগে আগস্টে পরিচালিত হয়েছিল মহিলা শাখার বিশেষ অভিযান। তিনি উল্লেখ করেন, পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মাঝে আগ্রহ তৈরি হওয়ায় সমাজের সর্বস্তরে সাংগঠনিক বার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। তৃণমূলের মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রাপ্ত ফলাফলের সামগ্রিক মূল্যায়ন করা হবে।
কর্মসূচি চলাকালে দলের আমির ডা. শফিকুর রহমানের একটি বিশেষ বার্তা লিফলেট আকারে দেশজুড়ে বিলি করা হয়। বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় রাজনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার মাধ্যমে দলটি সাধারণ মানুষের আস্থায় পরিণত হয়েছে এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ তার সুস্পষ্ট প্রমাণ দিয়েছে। তিনি একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি ও অবিচারের অবসান এবং নাগরিকের ভোট, ভাত ও মৌলিক অধিকারের সুরক্ষায় ইসলামী অনুশাসনের দিকে ফিরে আসার আহ্বান জানান।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের প্রচার সম্পাদক ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আব্দুস সাত্তার সুমন জানান, বিভিন্ন জনবহুল স্থানে তথ্য বুথ স্থাপন করে নাগরিক সম্পৃক্ততা বাড়ানো হয়েছে।
ঢাকা মহানগর উত্তরের প্রচার সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার জানান, ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের সমর্থনে লিফলেট বিতরণের পাশাপাশি পথসভা, বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও করপোরেট অফিসে গিয়ে গণসংযোগ চালিয়েছেন নেতাকর্মীরা। এসব তৎপরতার মাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাওয়া দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের সাংগঠনিক প্রস্তুতি অনেকাংশেই এগিয়ে নিয়েছেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন