এপ্রিল ১৫, ২০২৬, ০২:৩৪ পিএম
বিয়ে মানুষকে এক শালীন ও পবিত্র জীবনের পথে পরিচালিত করে এবং এটি মানব ইতিহাসের অন্যতম প্রাচীন ও বরকতময় একটি ইবাদত। ইসলাম ধর্ম বিয়েকে অত্যন্ত গুরুত্ব প্রদান করেছে এবং সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের জন্য দ্রুত বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়াকে ইমানি দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নবী করিম (সা.) যুবসমাজকে লক্ষ্য করে বলেছেন যে, যার সামর্থ্য আছে তার বিয়ে করা উচিত কারণ এটি চোখকে নিচু রাখে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে।
তবে ইসলামী শরিয়তে বিয়ের ক্ষেত্রে কিছু কঠোর নিয়ম ও নীতিমালা রয়েছে যা পালন করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য বাধ্যতামূলক। বিশেষ করে পবিত্র কোরআনে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে একজন পুরুষ ঠিক কাদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্কে জড়াতে পারবেন না।
পবিত্র কোরআনের সুরা নিসার ২২ ও ২৩ নম্বর আয়াতে এমন ১৪ জন নারীর পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে যাদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ হারাম বা অবৈধ।
এই তালিকায় সবার প্রথমেই রয়েছেন সৎ মা অর্থাৎ বাবার স্ত্রী। তবে বাবার স্ত্রীর পাশাপাশি দাদা বা নানা এবং তাদের ঊর্ধ্বতন পুরুষদের স্ত্রীরাও এই হুকুমের অন্তর্ভুক্ত হবেন। এরপর রয়েছেন জন্মদাত্রী মা এবং তার ঊর্ধ্বতন স্তরের নানি ও দাদিরা। নিজের ঔরসজাত কন্যা এবং নাতনি বা তার পরবর্তী স্তরের মেয়েরাও এই তালিকায় শামিল। এছাড়া নিজের সহোদর, বৈমাত্রেয় বা বৈপিত্রেয় বোনকে বিয়ে করা ইসলামে নিষিদ্ধ।বংশীয় সম্পর্কের বাইরেও কিছু রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়ের সাথে বিয়ে হারাম করা হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছেন বাবার বোন অর্থাৎ ফুফু এবং মায়ের বোন তথা খালা। এই হুকুমে বাবা ও মায়ের আপন বোন ছাড়াও তাদের ঊর্ধ্বতন স্তরের বোনরাও দাখিল হবেন। একইভাবে নিজের আপন ভাইদের মেয়ে অর্থাৎ ভাতিজি এবং বোনদের মেয়ে তথা ভাগিনি বা তাদের পরবর্তী স্তরের নাতনিদের বিয়ে করাও অবৈধ। ইসলামী আইনে বংশীয় সম্পর্কের মতো দুধ সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করেও কিছু নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। যেমন যিনি দুধ পান করিয়েছেন সেই মা এবং একই নারীর দুধ পান করা দুধ বোনকে বিয়ে করা যাবে না। এমনকি তাদের বংশের ফুফু বা খালার সাথেও বিবাহ বৈধ নয়।
পারিবারিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শাশুড়ি এবং যে স্ত্রীর সাথে সহবাস হয়েছে তার পূর্বের অন্য স্বামীর ঔরসজাত কন্যাকে বিয়ে করা হারাম। তবে যদি স্ত্রীর সাথে সহবাসের আগেই বিচ্ছেদ হয়ে যায় তবে তার কন্যার সাথে বিয়েতে বাধা নেই। এছাড়া নিজের ছেলের স্ত্রী বা পুত্রবধূ এবং নাতবউদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া নিষিদ্ধ। সবশেষে দুই বোনকে একসাথে বিবাহে রাখা বা স্ত্রীর আপন ফুফু, খালা, ভাতিজি ও ভাগিনিকে বিয়ের মধ্যে থাকাকালীন সময়ে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করা শরিয়ত সম্মত নয়।
এই ১৪ জন ছাড়াও নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে আরও কিছু নারীর সাথে বিয়ে হারাম করা হয়েছে। যেমন একসাথে চারজনের বেশি স্ত্রীকে রাখা যাবে না এবং কোনো অমুসলিম নারীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া মুসলিম পুরুষের জন্য নিষিদ্ধ। অন্য কোনো পুরুষের বিবাহিত স্ত্রী বা তালাকের পর ইদ্দত পালনকারী নারীকে বিয়ে করাও অবৈধ। এছাড়া নিজের তালাক দেওয়া স্ত্রীকে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে পুনরায় ফিরে পাওয়া ছাড়া সরাসরি বিয়ে করার সুযোগ নেই। শরিয়তের এই কঠোর বিধানগুলো মানব সভ্যতার আদর্শ ও পারিবারিক কাঠামোর পবিত্রতা রক্ষায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ কারণে বিবাহের আগে ইসলামী শরিয়তের এই বিষয়গুলো সঠিকভাবে অনুধাবন করা জরুরি।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন