এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম
পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন স্থানে অহংকার নামক মানবিক ত্রুটিকে এক ভয়াবহ ও ঘাতক ব্যাধি হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে। আধ্যাত্মিক গবেষকদের মতে এটিকে ঘাতক বলার অন্যতম প্রধান কারণ হলো এটি মানুষের অন্তর্জগৎকে তিলে তিলে ধ্বংস করে দেয়। পার্থিব জীবনে মানুষের ব্যক্তিত্ত্ব নষ্ট করার পাশাপাশি এর পরকালীন চরম ক্ষতির কথা ইসলামি শরিয়তে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বর্ণিত হয়েছে।
ইতিহাসের প্রথম অহংকারী হিসেবে ইবলিসের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে যার দম্ভ তাকে চিরকালের জন্য অভিশপ্ত করে আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত করেছিল।পবিত্র মহাগ্রন্থ আল কোরআনের সুরা আ‘রাফে আল্লাহ তায়ালা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন যে যারা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে অহংকার প্রকাশ করে তাদেরকে অবশ্যই তিনি তাঁর নিদর্শনাবলি থেকে বিমুখ করে রাখবেন।
এর মাধ্যমে বোঝা যায় যে একজন অহংকারী ব্যক্তি সত্যের পথ দেখার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। এছাড়া সুরা আন-নাহলে বলা হয়েছে যে আল্লাহ কখনোই অহংকারী ব্যক্তিদের পছন্দ করেন না।
ইসলামের দৃষ্টিতে যে ব্যক্তি সত্যের বিরুদ্ধে নিজের দম্ভ প্রদর্শন করে তার কোনো ইবাদত বা ঈমান শেষ পর্যন্ত কাজে আসে না যার জলজ্যান্ত প্রমাণ হলো অভিশপ্ত শয়তানের পরিণতি।অহংকারের ভয়াবহতা নিয়ে বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। সহিহ মুসলিমের একটি বর্ণনায় পাওয়া যায় যে রাসুল (সা.) বলেছেন যার অন্তরে এক বিন্দু পরিমাণ অহংকার থাকবে সে কখনোই জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। সাহাবিদের প্রশ্নের প্রেক্ষিতে তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে সুন্দর পোশাক বা জুতা পরিধান করা অহংকার নয় কারণ আল্লাহ নিজে সুন্দর এবং তিনি সৌন্দর্য পছন্দ করেন।
নবীজির ভাষায় অহংকার হলো মূলত সত্যকে গোপন বা অস্বীকার করা এবং অন্য মানুষকে তুচ্ছজ্ঞান বা অবজ্ঞা করা। এর মাধ্যমে সামাজিক সাম্য বিনষ্ট হয় এবং মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরি হয়।পবিত্র কোরআনের সুরা লোকমানে মানুষকে বিনয়ী হওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে যে কেউ যেন অহংকার বশে মানুষকে অবজ্ঞা না করে এবং পৃথিবীতে দম্ভের সাথে চলাফেরা না করে।
ইসলামি স্কলারদের মতে মহত্ব হলো খোদাতাআলার এক বিশেষ পরিচয় এবং অহংকার হলো তাঁর চাদর স্বরূপ। রাসুল (সা.) এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা সতর্ক করেছেন যে কেউ যদি এই গুণটি নিয়ে টানাটানি করে তবে তাকে কঠোর শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। সুতরাং মানুষের জন্য এই ব্যাধি থেকে বেঁচে থাকা কেবল ধর্মীয় দায়িত্বই নয় বরং একটি সুস্থ সমাজ ও সুন্দর মন গঠনের পূর্বশর্ত। মূলত বিনয় ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমেই এই মরণব্যাধি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন