জুলাই ৩, ২০২৬, ১২:১৪ পিএম
সবর বা ধৈর্য ইসলামের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গুণ, তবে আমাদের সমাজে এর প্রচলিত ধারণা প্রায়ই অসম্পূর্ণ।অনেকে মনে করেন সবর মানে হলো পরিস্থিতির কাছে নতি স্বীকার করা বা কষ্টের সময় হাত গুটিয়ে বসে থাকা। অথচ সবরের প্রকৃত হাকিকত বা মর্ম অত্যন্ত বৈপ্লবিক ও সক্রিয়। ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, সবরের প্রথম শর্ত হলো সাধ্যমতো চেষ্টা করা। কোনো উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য হাত গুটিয়ে বসে থাকাকে ধৈর্য বলা যায় না, বরং এটি অলসতা।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হিজরতের ইতিহাস আমাদের শেখায়, তিনি আল্লাহর ওপর ভরসা করার পাশাপাশি যথাযথ পরিকল্পনা ও দক্ষ পথপ্রদর্শক নিয়োগ করেছিলেন। অর্থাৎ সম্ভাব্য সব উপায় গ্রহণ করার পর ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করাই প্রকৃত ধৈর্য।
ধৈর্যের সঙ্গে দোয়ার সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। সংকটে অস্থিরতা কাটানো এবং লক্ষ্যে অবিচল থাকতে দোয়া মুমিনের প্রধান অস্ত্র। পবিত্র কোরআনে ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা মানুষকে আধ্যাত্মিকভাবে শক্তিশালী করে। সবরের মানে হলো প্রতিকূল স্রোতের বিপরীতে নৌকা চালানো। নবী-রাসুলরা কাফিরদের চরম অত্যাচারের মুখেও তাঁদের দাওয়াতি কাজ বা কর্মতৎপরতা থামিয়ে দেননি। সবরের অর্থ কখনোই স্থবিরতা নয়, বরং সক্রিয়তা ও কর্মের সংমিশ্রণ।
কৃষকের উপমাটি ধৈর্যের মর্ম বোঝার জন্য অত্যন্ত জুতসই। একজন কৃষক কঠোর পরিশ্রম করে বীজ বপন করে, আগাছা পরিষ্কার করে এবং রোদ-বৃষ্টি সহ্য করে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে। সে যদি বীজ না বুনে ফসল কাটার আশায় বসে থাকত, তবে তা হতো চরম বোকামি। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সাফল্যের জন্য তেমনি পরিশ্রমের বীজ বপন করতে হয়। ছাত্রের পড়ালেখা বা ব্যবসায়ীর শ্রমও ঠিক একই প্রক্রিয়ার অংশ।
ধৈর্য ধারণকারী ব্যক্তির মনে আল্লাহর প্রতি অটল বিশ্বাস বা সুধারণা থাকা অপরিহার্য। এটিই ধৈর্যের জ্বালানি হিসেবে কাজ করে। মুমিন বিশ্বাস করে, কষ্টের সঙ্গেই স্বস্তি লুকিয়ে আছে। আর এই ধৈর্যের চূড়ান্ত পর্যায় হলো তাওয়াক্কুল বা আল্লাহর ওপর পূর্ণ নির্ভরতা। যখন সব চেষ্টা শেষ হয়, তখন বান্দা তার ফলাফল স্রষ্টার হাতে সঁপে দেয়। সবর শুধু চোখের জল ফেলা বা অসহায়ত্ব প্রকাশ নয়, এটি প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে এক নিরন্তর লড়াই। যে ধৈর্য শ্রমহীন তা অলসতা, আর যে ধৈর্যের সঙ্গে আল্লাহর ওপর বিশ্বাস নেই তা কেবলই হতাশা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন