শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

তাওবার গুরুত্ব ও আল্লাহর অসীম ক্ষমার ঘোষণা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুলাই ৪, ২০২৬, ১১:৪৪ পিএম

তাওবার গুরুত্ব ও আল্লাহর অসীম ক্ষমার ঘোষণা

মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। পৃথিবীতে এমন কোনো মানুষ নেই, যিনি জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে গুনাহ বা ভুলের সম্মুখীন হননি। তবে ইসলামের সৌন্দর্য এখানেই যে, এটি মানুষকে পাপের কারণে হতাশ হতে শেখায় না; বরং তাওবার মাধ্যমে মহান রবের সান্নিধ্যে ফিরে আসার আহ্বান জানায়। আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের জন্য তাওবার দরজা সর্বদা উন্মুক্ত রেখেছেন এবং আন্তরিক তাওবাকারীদের ক্ষমা করার অঙ্গীকার করেছেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) পাপী বান্দার তাওবাকে অত্যন্ত ভালোবাসেন।পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেন, আপনি বলুন, হে আমার সেই বান্দারা, যারা নিজেদের ওপর সীমালঙ্ঘন করেছে! তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেন। এটি মানবজাতির জন্য আশা, সাহস ও আশ্বাসের এক চিরন্তন ঘোষণা। আদম সন্তানের প্রত্যেকেই ভুলকারী; আর ভুলকারীদের মধ্যে সর্বোত্তম তারা, যারা অধিক তাওবা করে।

তবে প্রকৃত তাওবা হলো গুনাহ থেকে অবিলম্বে বিরত হওয়া, কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হওয়া এবং ভবিষ্যতে সেই গুনাহে আর ফিরে না যাওয়ার দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করা। মানুষের হক নষ্ট হয়ে থাকলে তা যথাযথভাবে আদায় করাও তাওবার অংশ। মহান আল্লাহ তাওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদেরও ভালোবাসেন। এটি মুমিনের জন্য পরম সৌভাগ্যের সংবাদ।

আজকের সমাজে অনেক মানুষ অতীতের গুনাহের কারণে হতাশ হয়ে পড়েন, যা শয়তানের একটি প্রতারণা। শয়তান চায় মানুষ হতাশার অতল গহ্বরে ডুবে থাকুক। কিন্তু প্রকৃত মুমিন কখনো আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয় না। মৃত্যু উপস্থিত না হওয়া পর্যন্ত তাওবার দরজা খোলা থাকে। তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত মহান আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং আত্মশুদ্ধির চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।