জুলাই ১১, ২০২৬, ১১:৩২ এএম
কোরআন কেবল তেলাওয়াতের জন্য অবতীর্ণ কোনো গ্রন্থ নয়। এটি মানুষের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রের জন্য আল্লাহর সর্বোত্তম দিকনির্দেশনা। ঈমান, ইবাদত, চরিত্র, পরিবার, সমাজ কিংবা ব্যক্তিগত সংকট—প্রতিটি বিষয়ে কোরআনের রয়েছে সুস্পষ্ট শিক্ষা ও প্রজ্ঞাপূর্ণ নির্দেশনা। একজন মুমিনের জন্য কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক শুধু পড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা বোঝা, মুখস্থ করা, চিন্তা করা এবং জীবনে বাস্তবায়ন করাই প্রকৃত উদ্দেশ্য।
কোরআনে এমন অনেক আয়াত রয়েছে, যেগুলো একজন মুসলিমের দৈনন্দিন জীবনের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কিছু আয়াত সালাতের অবিচ্ছেদ্য অংশ, কিছু আল্লাহর একত্ববাদ ও মহিমার ঘোষণা, কিছু বিপদে ধৈর্য ও আশা জাগায়, আবার কিছু আয়াত দোয়া, তাওয়াক্কুল ও উত্তম চরিত্র গঠনের শিক্ষা দেয়। এসব আয়াত মুখস্থ থাকলে প্রয়োজনে সহজেই তা তেলাওয়াত করা যায় এবং জীবনের নানা বাস্তবতায় সেগুলোর আলোকে নিজেকে পরিচালিত করা সহজ হয়।
শুরুতেই আসে সুরা আল-ফাতিহার সাতটি আয়াত। এটি কোরআনের সূচনা এবং প্রতিটি রাকাতে সালাতের অপরিহার্য অংশ। এরপরই রয়েছে আয়াতুল কুরসি, যা সুরা আল-বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াতে বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহর মহিমা, ক্ষমতা ও একত্ববাদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এই আয়াতটি ফরজ সালাতের পর এবং রাতে ঘুমানোর আগে পাঠের বিশেষ ফজিলত রয়েছে। সুরা আল-বাকারার শেষ দুই আয়াত ঈমান, দোয়া ও আল্লাহর ওপর ভরসার অনন্য শিক্ষা বহন করে।
বিপদ ও হতাশার সময় সুরা আশ-শারহের ৫ ও ৬ নম্বর আয়াত আশার আলো দেখায়। সুরা আজ-জুমার ৫৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের নিরাশ না হওয়ার বার্তা দিয়েছেন। এছাড়া তাওয়াক্কুল বা আল্লাহর ওপর নির্ভরতার শিক্ষা দেয় সুরা আত-তালাকের ৩ নম্বর আয়াত। অস্থিরতা ও দুশ্চিন্তার সময় সুরা আর-রাদের ২৮ নম্বর আয়াত মুমিনকে আল্লাহর জিকিরের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়। বিপদ মোকাবিলায় সুরা আল-বাকারার ১৫৩ নম্বর আয়াতে ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সুরা আল-ইখলাস তাওহিদের সংক্ষিপ্ত ও শক্তিশালী ঘোষণা। অকল্যাণ ও অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনার জন্য সুরা আল-ফালাক ও সুরা আন-নাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া সুরা আলে ইমরানের ১৩৯ নম্বর আয়াত ঈমানদারদের জন্য সাহস ও আত্মবিশ্বাসের বার্তা বয়ে আনে। সুরা আন-নাহলের ৯০ নম্বর আয়াতকে কোরআনের অন্যতম ব্যাপক নৈতিক নির্দেশনা হিসেবে গণ্য করা হয়, যেখানে ইনসাফ ও সদাচারের নির্দেশ রয়েছে।
কোরআনের এই আয়াতগুলো মুখস্থ করার উদ্দেশ্য শুধু মুখে উচ্চারণ করা নয়, বরং আল্লাহর বাণীকে হৃদয়ে ধারণ করা। প্রতিদিন একটি করে আয়াত মুখস্থ করার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। কারণ কোরআন তখনই মানুষের জন্য প্রকৃত হিদায়াত হয়ে ওঠে, যখন তা শুধু ঠোঁটে নয়, হৃদয়ে এবং কর্মেও প্রতিফলিত হয়। নিয়মিত কোরআনের আয়াত মুখস্থ করলে এবং তার অর্থ নিয়ে চিন্তা করলে হৃদয়ে প্রশান্তি আসে এবং সংকটের মুহূর্তেও আল্লাহর ওপর ভরসা অটুট থাকে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন