আগস্ট ৬, ২০২৬, ১০:৫৭ এএম
মানুষের স্বভাবজাত দুর্বলতার কারণে গুনাহ সংঘটিত হলেও সব পাপের পরিণতি বা শাস্তি এক রকম হয় না। ইসলাম ধর্মে মানুষের ঈমান ও সমাজকে ধ্বংসকারী এমন সাতটি মহাপাপ সম্পর্কে বিশেষভাবে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসব অপরাধকে আল-মুবিকাত বা সম্পূর্ণ ধ্বংসাত্মক পাপ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।মারাত্মক এই পাপগুলো মানুষকে দুনিয়ায় চরমভাবে বিপর্যস্ত করার পাশাপাশি আখিরাতে কঠিন শাস্তির মুখে ফেলে।
হাদিসে উল্লিখিত প্রথম ধ্বংসাত্মক পাপ হলো আল্লাহর সঙ্গে কোনো অংশীদার সাব্যস্ত করা বা শিরক করা। পবিত্র কোরআনে এটিকে সবচেয়ে বড় জুলুম হিসেবে বর্ণনা করে বলা হয়েছে যে আন্তরিক তওবা ছাড়া আল্লাহ শিরকের গুনাহ ক্ষমা করেন না। এরপরই রয়েছে জাদুটোনা বা কুফুরি মন্ত্রের ক্ষতিকর ব্যবহার। বর্তমান সময়েও তাবিজ বা প্রতারণার মাধ্যমে এসব অপকর্মের ফলে বহু সাধারণ মানুষ ঈমান ও সম্পদ হারাচ্ছেন।
অন্যায়ভাবে কোনো নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করাও ইসলামে মারাত্মক একটি অপরাধ। কোরআনের বর্ণনামতে পরিকল্পিতভাবে বা বিনা অপরাধে একজনকে হত্যা করা সমগ্র মানবজাতিকে হত্যার সমতুল্য বলে বিবেচনা করা হয়। চতুর্থ পাপ হলো সুদ খাওয়া, যা ব্যক্তিকে আল্লাহর কাছে অপছন্দনীয় করার পাশাপাশি সমাজের অর্থনৈতিক ভারসাম্য পুরোপুরি নষ্ট করে দেয়। পঞ্চম অপরাধ হিসেবে দুর্বল ও পিতৃমাতৃহীন এতিমের সম্পদ অন্যায়ভাবে আত্মসাৎ করার কথা হাদিসে বলা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে যারা এতিমের সম্পদ আত্মসাৎ করে তারা মূলত নিজেদের পেটে আগুন ভরে।
ধর্মীয় যুদ্ধের ময়দানে শত্রুর মুখোমুখি হয়ে ভয় পেয়ে কাপুরুষের মতো পালিয়ে যাওয়াকেও বড় গুনাহ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে কৌশলগত কারণে অন্য বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত হতে অবস্থান পরিবর্তন করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না। সর্বশেষ সপ্তম পাপটি হলো কোনো সতী ও নিরপরাধ নারীর বিরুদ্ধে ব্যভিচারের মিথ্যা অপবাদ দেওয়া। এসব অপরাধের প্রতিটিই মানুষের অধিকার নষ্ট করার পাশাপাশি সমাজের নৈতিক ও সামাজিক ভিত্তিকে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে দেয়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন